আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশা সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে তামাক বা নিকোটিনযুক্ত সমস্ত পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ এবং বিক্রয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধোঁয়াবিহীন তামাকের উপর বিদ্যমান বিধিনিষেধকে আরও কঠোর করা হল।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে সমস্ত চিবিয়ে খাওয়ার সুগন্ধি বা অন্যান্য সংযোজনীর তামাক পণ্য। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ওড়শায় বর্তমানে গুটখা, পান মশলা এবং অন্যান্য সুগন্ধিযুক্ত বা স্বাদযুক্ত চিবিয়ে খাওয়ার জিনিস (প্যাকেটজাত হোক বা না হোক) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সর্বশেষ এই বিজ্ঞপ্তিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি জারি করা পূর্ববর্তী আদেশকে বাতিল করেছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'বিভিন্ন নামে তামাক ও নিকোটিনযুক্ত বেশ কিছু পণ্য বাজারে সহজলভ্য এবং এই ধরনের পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।'

সরকার পান মশলা, পান পাতা, সুপারি এবং চুন মেশানো ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যাপক ব্যবহার থেকে উদ্ভূত গুরুতর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ তুলে ধরেছে এবং উল্লেখ করেছে যে- এই ধরনের ব্যবহার বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (IARC)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে - জর্দা, খৈনি, গুটখা এবং প্রক্রিয়াজাত, সুগন্ধিযুক্ত বা স্বাদযুক্ত তামাকের মতো চিবিয়ে খাওয়ার তামাকজাত পণ্যগুলিকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে - এই পণ্যগুলি আসক্তি, মুখের স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি ঘটাতে পারে এবং মুখ, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, গলা (ফ্যারিংস এবং ল্যারিংস) এবং কিডনির ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাজ্যে ধোঁয়াবিহীন তামাকের উচ্চ ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের দ্বিতীয় পর্ব অনুসারে, ওড়িশার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪২ শতাংশেরও বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। রাজ্য সরকারের একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে আইনটি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যার আইনি প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী।”