আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশায় এক অভিনব উদ্ধার অভিযান নজর কাড়ল বিশ্বের। ৩০ ফুট গভীর একটি কুয়োয় পড়ে গিয়েছিল একটি বন্য হাতি। শেষ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানের একটি বিখ্যাত সূত্র ব্যবহার করে হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধুমাত্র বিজ্ঞানের একটি সূত্রকে কাজে লাগিয়ে যে এত বড় উদ্ধারকাজ নিমেষে করে ফেলা সম্ভব হয়েছে এই কথা ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা প্রশংসার ঝড় তুলেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেওনঝড় জেলায়। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুযায়ী,বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাতে ভুল করে একটি পুরুষ হাতি কুয়োর মধ্যে পড়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটে বানাজোড়ি এলাকার সদর রেঞ্জে। সকালে বিষয়টি জানতে পারেন বন দপ্তরের কর্মীরা। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বন দপ্তর, দমকল ও পুলিশ কর্মীরা।
কুয়োটি প্রায় ৩০ ফুট গভীর ছিল। তাই হাতিটিকে সরাসরি উপরে তোলা সহজ ছিল না। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ঢালু রাস্তা বা ব়্যাম্প তৈরি করে হাতিটিকে বের করা হবে।
কিন্তু সেই পদ্ধতিতে ঝুঁকি ছিল। কুয়োর দেওয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আবার হাতিটি ভয় পেয়ে গেলে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারত।
এর পরে বন আধিকারিকরা অন্য উপায় ভাবেন। গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সূত্র ব্যবহার করে তারা উদ্ধার কার্য চালাবেন বলে ভাবেন। এই সূত্র অনুযায়ী, কোনও বস্তু যদি জল বা অন্য তরলের মধ্যে ডুবে থাকে, তবে সেটি উপরের দিকে ভাসমান বল অনুভব করে।
অর্থাৎ বস্তুটি ধীরে ধীরে ভেসে উঠতে পারে। এই ধারণা কাজে লাগিয়েই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কুয়োর মধ্যে পাইপ দিয়ে জল ঢালা শুরু করা হয়। দুটি পাইপ ব্যবহার করে ক্রমশ কুয়োটি জলে ভরা হয়।
এই গোটা ঘটনার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে আছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাতিটি ধৈর্য ধরে কুয়োর ভিতরে দাঁড়িয়ে ছিল। ধীরে ধীরে জল বাড়তে থাকে। জলের স্তর বাড়ার সঙ্গে হাতিটিও উপরে ভেসে উঠতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত যখন কুয়ো প্রায় জলে ভরে যায়, তখন হাতিটি কুয়োর মুখের কাছে চলে আসে। সেই সময় একটি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয়।
খুব সতর্কভাবে হাতিটিকে কুয়োর ধারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তারপর হাতিটি ধীরে ধীরে কুয়ো থেকে বেরিয়ে আসে। পরে তাকে নিরাপদে জঙ্গলের দিকে পাঠানো হয়।
এই পুরো ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বনদপ্তরের কর্মীদের এই বুদ্ধির প্রশংসা করেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বেচারা হাতিটি খুব ক্লান্ত ছিল। কিন্তু, আশার কথা এই যে, শেষ পর্যন্ত তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে।’
আর একজন মন্তব্য করেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান আজ সত্যিই এক প্রাণ বাঁচাল।’ এই ঘটনা আবারও দেখাল, বিজ্ঞান ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
