আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিনের বাইরে অ্যাপল-এর আইফোন উৎপাদন পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত অন্যতম সংস্থা টাটা ইলেকট্রনিক্স। এবার সেই টাটা কোপানিই বড়সড় আইনি বিপাকে। একইসঙ্গে পরিবেশ দূষণেরও অভিযোগ সংস্থার বিরুদ্ধে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর হোসুরে অবস্থিত টাটার আইফোন ব্যাক প্যানেল এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। কারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য জল পার্শ্ববর্তী চাষের জমির ভূগর্ভস্থ জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে বলে উঠেছে অভিযোগ। তামিলনাড়ুর দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তরফে ইতিমধ্যেই টাটার কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংস্থার জবাব সন্তোষজনক মনে না হলে কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎপাদন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা হতে পারে।

 

রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে একটি সরকারি নোটিশ জারি করা হয়। জানানো হয়, কারখানার আশেপাশের কৃষকেরা বেশ কয়েক মাস ধরেই রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে লাগাতার অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য জল কৃষিজমি এবং কুয়োগুলিকে বিষিয়ে দিচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড পাঁচবার ওই কারখানা পরিদর্শন করেন।

 

তদন্তে জানা যায়, ওই কারখানার ভিতরে একটি বৃষ্টির জল ধরে রাখার পুকুরে অপরিশোধিত বর্জ্য জল জমা হয়। সেই পুকুর থেকেই বর্জ্য জল উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উন্মুক্ত কুয়োগুলিতে মিশে ভূগর্ভস্থ জলকে সম্পূর্ণরূপে দূষিত করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড নির্দেশিকা জারি করে। তবে টাটা কর্তৃপক্ষ তখন কোনও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করেনি।

 

চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগের জবাবে টাটা ইলেকট্রনিক্স একটি বিবৃতি জারি করেছে। জানিয়েছে, তারা একটি অনুমোদিত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে জল পরীক্ষা করিয়েছে। সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে তাদের সংস্থা সব রকম পরিবেশগত নিয়মবিধি মেনেই কাজ করছে। টাটা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তারা পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের সুরক্ষায় দায়বদ্ধ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নোটিশের জবাবও যথাসময়ে দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে সংবাদসংস্থার আর কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হয়নি অ্যাপল কর্তৃপক্ষ বা তামিলনাড়ু সরকার।

 

চিনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভারতে আইফোন উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাইওয়ানের ফক্সকনের পর টাটা ইলেকট্রনিক্সই দক্ষিণ এশিয়ায় অ্যাপলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সহযোগী। রিসার্চ ফার্ম কাউন্টারপয়েন্ট-এর হিসাব অনুযায়ী, চার বছর আগে বিশ্বজুড়ে মোট আইফোনের মাত্র ৬ শতাংশ ভারতে তৈরি হত। যা ২০২৬ সালের মধ্যে বেড়ে ২৬ শতাংশে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিপুল বাণিজ্যিক লক্ষ্যের মাঝেই পরিবেশ দূষণের এই গুরুতর অভিযোগ টাটা এবং অ্যাপল—উভয় কর্তৃপক্ষের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।