আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বাড়ছে বিশ্বের জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা আরও বেশি—দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানিই এই পথ দিয়ে আসে।


এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্পের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে নজরদারি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি আইএনএস সুরত নামের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার গাস্ফ অফ ওমানে মোতায়েন করা হয়েছে। এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডোসহ নানা আধুনিক অস্ত্র, যা সমুদ্রে বহুমুখী অভিযান চালাতে সক্ষম।


সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে ২২টি ভারতমুখী জাহাজ আটকে পড়েছে। এই জাহাজগুলিতে মোট ৬১১ জন নাবিক রয়েছেন। এছাড়া প্রণালীর পূর্ব দিকে আরও চারটি জাহাজ আটকে রয়েছে।


এদিকে, জলদস্যু দমনে ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযানও চলছে। সেখানে তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই সমুদ্রপথ সুয়েজ খাল লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, যা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট।


উত্তেজনার মধ্যেও কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ‘শিবালিক’ নামের একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ ৪০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। ‘জগ লাডকি’ নামের আরেকটি জাহাজ ৮১,০০০ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের পথে রয়েছে। অন্যদিকে ‘নন্দা দেবী’ জাহাজ ৪৬,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে ভাদিনার বন্দরে পৌঁছেছে।

 


তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের কোনও “সর্বজনীন চুক্তি” নেই। প্রতিটি জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদাভাবে আলোচনা করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।