আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়ডার একটি নির্মীয়মাণ মলের জলমগ্ন বেসমেন্টে গাড়ি পড়ে মৃত্যু হল ২৭ বছর বয়সি এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ, ডুবুরি এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধারকাজ চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায়  অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন আবাসনের প্রমোটার। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম অভয় কুমার। গত শনিবার রাতে গুরুগ্রাম থেকে ফেরার পথে একটি নির্মাণাধীন প্লটের জমা জলে গাড়ি উল্টে মৃত্যু হয়েছিল যুবরাজ মেহতার। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, একটি বহুতলের বেসমেন্ট তৈরির জন্য ওই জমিতে প্রায় ২০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। বৃষ্টির জলে গর্তটি ভরে থাকলেও সেটির চারপাশে কোনও ব্যারিকেড বা রেলিং ছিল না। এমনকী কোনও সতর্কবার্তা বা রিফ্লেক্টরও ব্যবহার করা হয়নি। শনিবার রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে রাস্তা দেখতে না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি মরণফাঁদে গিয়ে পড়ে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক শিহরিত হওয়ার মতো তথ্য। গাড়িটি গর্তে পড়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যুবরাজ গাড়ির ছাদে উঠে এসেছিলেন। সেখান থেকেই ফোন করেছিলেন বাবাকে। টানা দেড় ঘণ্টা বাঁচার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ফুসফুসে জল ঢুকে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতি ও নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগে দুই নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই নলেজ পার্ক থানার পুলিশ অভয় কুমারকে হেফাজতে নিয়েছে।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা রাজকুমার মেহতা। ঘটনার জেরে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। নলেজ পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি ওই গর্তটি আবর্জনা দিয়ে ভরাট করার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।