আজকাল ওয়েবডেস্ক: কথায় আছে রাখে হরি তো মারে কে! ঠিক সেটাই হল বাস্তব উত্তরপ্রদেশে। নদীর ওপরে রয়েছে সেতু। ঠিক তার পাশেই রয়েছে একটা গাছ। সবে হয়েছে সাত দিন, এরকম একটা শিশুকে নদীতে ফেলে দিতে গিয়েছিল তার বাবা-মা। কিন্তু সে নিচে না পড়ে গাছের ডালে গিয়ে আটকায়। গাছে বসা বিভিন্ন পাখি শিশুটিকে ঠোকরায়। পরে একজন দেখতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। কী নাম, কী পরিচয় কিছুই জানা যায় না। ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে। 

 

 

কানপুর হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান ওই বাচ্চাটির ৫০ টিরও বেশি সেলাই পড়েছে সারা শরীরে। অদ্ভুতভাবে বেঁচে যায় শিশুটি। তার নাম রাখা হয় কৃষ্ণ। কারণ তাঁকে যেদিন উদ্ধার করা হয়েছিল দিনটি ছিল জন্মাষ্টমী। দু'মাস সে ছিল ডাক্তার এবং নার্সদের তত্ত্বাবধানে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে বাচ্চাটি। দুদিন আগে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশ ও শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্যদের কাছে। 

 

 

কানপুরের লালা লাজপত রায় হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা সঞ্জয় কালা জানিয়েছেন, প্রথমে শিশুটি ছিল হামিরপুরের জেলা হাসপাতালে। তারপর তাঁকে কানপুরে রেফার করা হয়। শিশুটিকে হামিরপুরের কাছে রথের একটি সেতু থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং সৌভাগ্যবশত, সে একটি বড় গাছে আটকে যায়। ডাক্তারবাবুর মতে, কাক এবং কিছু প্রাণী বাচ্চাটিকে ঠুকরেছিল। যার ফলে গোটা শরীরে প্রচুর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। 

 

 

পড়ে যাওয়ার কারণে সে বেশ কিছু ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। মনে হচ্ছে তাকে কিছু কাক এবং একটি প্রাণীও কামড় দিয়েছে, কারণ তার একটি গাছ ছিল। তার পিঠে গুরুতর ক্ষত, হামিরপুর জেলা হাসপাতাল তাকে 50টি ক্ষত নিয়ে আমাদের কাছে রেফার করেছে,” বলেছেন ডাঃ সঞ্জয় কালা। 

 

 

হাসপাতালের নিও-ন্যাটাল আইসিইউ-এর একজন নার্স লক্ষ্মী বলেন, ভর্তি হওয়ার ১০-১৫ দিন পর যখন সে অনেকটা ভালো হয়ে যায়, তখন মনে করা হয়েছিল তাঁকে কোলে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ক্ষতগুলি তখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি। যখন শিশুটি ব্যথায় কাঁদত, তখন নার্সরা দূর থেকে কৃষ্ণের গান গাইতেন। তাতে কিছু সময় পরে চুপ হয়ে যেত শিশুটি। 

 

 

এখন যখন তাঁকে ছাড়ার সময় এসেছে তখন চোখে জল তাঁদের। তাদের বক্তব্য, শিশুটি এরপর ভালো জীবন পাক। বাবা-মা চাইলে কোনও মন্দিরের সামনে বা মসজিদের সামনে ফেলে রেখে যেতে পারতেন। কিন্তু এই কাজ করা উচিত নয়। বরাত জোরে বেঁচে যায় শিশুটি।