আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ২০২৬-এর ভাড়া সংক্রান্ত নতুন নিয়ম। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে নাকি ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের জন্য নতুন ভাড়া আইন চালু হয়েছে। এই পোস্টগুলোতে বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে, ডিপোজিট বা ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের বিষয়ে নানান তথ্য রয়েছে। এই তথ্যগুলো দেখে বাড়ির মালিক এবং ভাড়টিয়া, উভয়ই বিভ্রান্তিতে পড়েছে।
পোস্টের তথ্য অনুসারে, আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ দুই মাসের ভাড়ার সমান সিকিউরিটি ডিপোজিট নিতে পারবেন। বাণিজ্যিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ডিপোজিটের সীমা ছয় মাসের ভাড়া পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বাড়িওয়ালা বছরে একবারই ভাড়া বাড়াতে পারবেন। ভাড়া বাড়ানোর আগে ভাড়াটিয়াকে অন্তত ৯০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
এছাড়াও পোস্টগুলিতে বলা হচ্ছে, বাড়িওয়ালা যদি মেরামতির জন্য বাড়ি পরিদর্শনে আসতে চান, তবে ভাড়াটিয়াকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অন্য একটি পোস্টে বলা হয়েছে, যদি বাড়িতে বড় কোনও মেরামতের প্রয়োজন হয়, তবে ভাড়াটিয়া তা বাড়িওয়ালাকে জানাতে পারবেন। যদি ৩০ দিনের মধ্যে সেই সমস্যা সমাধান না করা হয়, তবে ভাড়াটিয়া নিজেই মেরামত করাতে পারবেন। পরে সেই খরচ ভাড়ার থেকে কেটে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সমাজ মাধ্যমে আরও বলা হচ্ছে, ভাড়াটিয়াকে ভয় দেখালে, বা বাড়ি তালা বন্ধ করে দিলে, অথবা বিদ্যুৎ কিম্বা জলের সংযোগ কেটে দিলে, ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে। কিছু পোস্টে আবার দাবি করা হয়েছে, ভাড়া সংক্রান্ত আইনই বিবাদগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
তবে বাস্তবে এই তথ্যগুলি অনেকাংশেই নতুন তথ্য নয়। এই নিয়মগুলির বেশিরভাগই এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২১ সালের মডেল টেন্যান্সি অ্যাক্ট থেকে। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল একটি মডেল কাঠামো তৈরি করা। যাতে রাজ্য সরকারগুলো নিজেদের ভাড়া সংক্রান্ত আইন তৈরি বা সংশোধনের সময় এই কাঠামো অনুসরণ করতে পারে।
ভারতে জমি ও আবাসন সংক্রান্ত আইন মূলত রাজ্য সরকারের অধীন। ফলে ভাড়া সংক্রান্ত আইনও প্রতিটি রাজ্য আলাদা ভাবে নির্ধারণ করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে লোকসভায় এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কুশল কিশোর। তাঁর কথায়, “জমি ও উপনিবেশ সংক্রান্ত বিষয় রাজ্য সরকারের অধিকারভুক্ত। তাই কেন্দ্র কেবল একটি মডেল-আইন প্রস্তাব করতে পারে। বাস্তবে আইন কার্যকর করা রাজ্যগুলির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।” এখন পর্যন্ত খুব অল্প কয়েকটি অঞ্চল এই মডেল আইনের ভিত্তিতে নিজেদের আইন তৈরি করেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভাড়ার চুক্তির সময় আধার তথ্য বাধ্যতামূলক করা হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের কিছু পুরনো রায়ের সঙ্গে মিল নাও খেতে পারে।
সব মিলিয়ে, “নিউ রেন্ট রুলস ২০২৬” নামে যে নিয়মগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেগুলি আসলে নতুন কোনও আইন নয়। এগুলির বেশিরভাগই আগের একটি মডেল আইনের অংশ। সম্প্রতি সেগুলি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
