আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বদলে গেল দেশের প্রশাসনিক ক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ উদ্বোধন করলেন ‘সেবা তীর্থ’—নতুন এক কমপ্লেক্স, যেখানে স্থানান্তরিত হল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক “রূপান্তরমূলক মাইলফলক”।
দুপুর প্রায় ২টায় প্রধানমন্ত্রী ‘সেবা তীর্থ’ নাম ঘোষণা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সেবা তীর্থের পাশাপাশি ‘কর্তব্য ভবন ১’ ও ‘কর্তব্য ভবন ২’। এই দুই ভবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক স্থান পাবে। একই সঙ্গে তিনি ১০০ টাকার একটি স্মারক মুদ্রাও প্রকাশ করেন।
দশকের পর দশক ধরে সেন্ট্রাল ভিস্তার বিভিন্ন পুরনো ও বিচ্ছিন্ন ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করছিল বিভিন্ন মন্ত্রক। ফলে সমন্বয়ের অভাব, লজিস্টিক জটিলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নতুন কমপ্লেক্সে প্রশাসনের মূল অঙ্গগুলিকে এক ছাদের তলায় আনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সরকারের আশা, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
‘সেবা তীর্থ’-এ থাকবে তিনটি মূল নির্বাহী প্রতিষ্ঠান—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (সেবা তীর্থ-১), ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ-২) এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ-৩)। এতদিন এই সংস্থাগুলি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে কাজ করত। একসঙ্গে থাকার ফলে কৌশলগত স্তরে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
&t=781sঅন্যদিকে, ‘কর্তব্য ভবন ১’ ও ‘কর্তব্য ভবন ২’-এ থাকবে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কর্পোরেট বিষয়ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, রসায়ন ও সার, এবং জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রক। আন্তঃমন্ত্রক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এই পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন কমপ্লেক্সে রয়েছে ডিজিটালি সমন্বিত অফিস ব্যবস্থা, জনসাধারণের জন্য নির্দিষ্ট ইন্টারফেস জোন এবং কেন্দ্রীয় রিসেপশন ব্যবস্থা। উন্নত ই-গভর্ন্যান্স পরিকাঠামো প্রশাসনিক কাজকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করবে বলে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা এবং আধুনিক জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি।
পরিবেশবান্ধব দিক থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪-স্টার জিআরআইএইচএ (GRIHA) মানদণ্ড মেনে নির্মিত এই ভবনগুলিতে রয়েছে নতুন করে ব্যবহারযোগ্য শক্তি ব্যবহার, জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শক্তি-সাশ্রয়ী নকশা।
এদিকে, সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লক—যেখানে এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পরিচালিত হতো—সেগুলিকে রূপান্তর করা হবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জাদুঘরে। নতুন জাদুঘরের নাম রাখা হয়েছে ‘যুগে যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’। এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরকারের মতে, এই স্থানান্তর কেবল ভবন পরিবর্তন নয়—এটি প্রশাসনিক দক্ষতা, সমন্বয় এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনের নতুন দিগন্তের সূচনা।
