আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মীরাটে এক ভিন্ন ধর্মে  বিয়েকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং রিসর্ট কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করে দেওয়ায় নির্ধারিত দিনে বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি।

ঘটনাটি মীরাটের গঙ্গানগর এলাকার। সেখানকার এক হিন্দু তরুণীর সঙ্গে এক মুসলিম যুবকের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল গঙ্গানগর–মাওয়ানা রোডের একটি রিসর্টে। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র ছাপা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে পাত্রের নাম ‘সাহিল’ লেখা থাকলেও পরে ‘শাহভাজ’ নাম সামনে আসায় কিছু হিন্দু সংগঠন প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, পরিচয় গোপন করা হয়েছে এবং বিষয়টি তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর সঙ্গে জড়িত হতে পারে।

এই অভিযোগ ঘিরে অখিল ভারতীয় হিন্দু সুরক্ষা সংগঠনের পক্ষ থেকে রিসর্টের বাইরে ‘হিন্দু মহাপঞ্চায়েত’-এর ডাক দেওয়া হয়। সম্ভাব্য জমায়েত ও বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই নিরাপত্তা বাড়ায়। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয় সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে সংগঠনের কিছু পদাধিকারীর অভিযোগ, তাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল—যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, কেবলমাত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়। ফলে নির্ধারিত দিনে বিয়ে আর হয়নি। পরে তরুণীর কাকা গঙ্গানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মান্তর ও প্রতারণার অভিযোগ আনেন। পুলিশ জানিয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমার সংবাদ সংস্থা-কে জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যেই তদন্ত করা হচ্ছে। আমন্ত্রণপত্রে নামের অসঙ্গতি এবং অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

&t=781s

অখিল ভারতীয় হিন্দু সুরক্ষা সংগঠনের জাতীয় সভাপতি সচিন সিরোহি দাবি করেন, “আমরা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করা হয়ে থাকে বা কোনও রকম জোরজবরদস্তি থাকে, তা হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। প্রশাসনের উচিত স্বচ্ছ তদন্ত করা।” তাঁর কথায়, ‘মহাপঞ্চায়েত’-এর উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনা এবং মানুষকে সচেতন করা।

অন্যদিকে, তরুণী নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ছয় বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক রয়েছে এবং উভয় পরিবারই বিষয়টি জানত বলে তাঁর দাবি। ‘সাহিল’ নামটি তাঁর মায়ের দেওয়া একটি ডাকনাম বলেও তিনি জানান। পরিচয় গোপন বা জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগ তিনি সরাসরি খারিজ করেন।

তরুণীর আরও অভিযোগ, কিছু মানুষ অকারণে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছেন। তিনি রাজ্য সরকারের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কাকার সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে তাঁর ইঙ্গিত।

নিজেকে আম্বেদকরপন্থী ও বৌদ্ধধর্মের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়ে তরুণী জানান, বিয়েটি বৌদ্ধ রীতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। তা হলে কেন বিষয়টিকে হিন্দু–মুসলিম প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তারা শাহভাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের তরফে সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।