আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঋণ আদায়ে কড়া ও অপমানজনক আচরণ রুখতে বড়সড় বদলের প্রস্তাব আনল Reserve Bank of India (আরবিআই)। নতুন খসড়া নির্দেশিকায় ঋণগ্রহীতাদের সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—কোন ধরনের আচরণকে ‘কঠোর’ বা জবরদস্তিমূলক বলে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়মগুলি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা এবং তা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক, পেমেন্টস ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও লোকাল এরিয়া ব্যাঙ্ক—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ঋণ আদায়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগে প্রতিটি ব্যাঙ্ককে বোর্ড-অনুমোদিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। সেই নীতিতে আচরণবিধি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। অর্থাৎ, রিকভারি এজেন্টদের আর ‘অনানুষ্ঠানিক’ভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে না—তাদের কাজের জন্য সরাসরি দায়ী থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক।
আরবিআই জানিয়েছে, ঋণগ্রহীতা বা জামিনদারকে কেবল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে যোগাযোগ করা যাবে। কোনও গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় ফোন বা সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলার অনুরোধ করলে, তা সম্মান জানাতে হবে। আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী বা রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যোগাযোগ সাধারণত ঋণগ্রহীতার পছন্দের জায়গায় হবে; তা না হলে তাঁর বাসভবনে। প্রয়োজন হলে কর্মস্থলেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। শোকের সময়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিয়ে বা ধর্মীয় উৎসবের মতো উপলক্ষে ফোন বা বাড়িতে যাওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। মাইক্রোফাইন্যান্স ঋণের ক্ষেত্রে কিস্তি আদায় পারস্পরিকভাবে নির্ধারিত কোনও কেন্দ্রীয় স্থানে করতে হবে। তবে কোনও ঋণগ্রহীতা টানা দু’বার না এলে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তাঁর বাড়ি বা কর্মস্থলে যেতে পারবেন।
&t=781sআচরণবিধি নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিকভারি এজেন্টদের ভদ্র ও শালীন আচরণ বজায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র ব্যাঙ্কের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই আদায় প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। লিখিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের পূর্বানুমোদন জরুরি, এবং অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দিতে হবে।
কোন আচরণ ‘কঠোর’ হিসেবে গণ্য হবে, তাও নির্দিষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। হুমকিমূলক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার, অতিরিক্ত বা বারবার ফোন করা, নির্ধারিত সময়ের বাইরে যোগাযোগ, অজ্ঞাত পরিচয়ে ভয় দেখানো ফোন, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপযুক্ত বার্তা পাঠানো—এসব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ঋণগ্রহীতা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের অপমান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ, সম্পত্তি বা সুনাম নষ্টের হুমকি দেওয়া কিংবা বকেয়া টাকার পরিমাণ বা আইনি পরিণতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া—এসবও অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিটি ব্যাঙ্ককে ঋণ আদায় সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং ঋণচুক্তির অংশ হিসেবে সেই ব্যবস্থার বিবরণ গ্রাহকদের জানাতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই প্রস্তাব স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ঋণ আদায় প্রক্রিয়া চলবে, কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক। ঋণগ্রহীতাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আরবিআইয়ের মূল লক্ষ্য।
