আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামীর চোখের সামনে বন্ধুর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রী। প্রতিবেশীরাও লুকিয়ে লুকিয়ে মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করলেন। তিনজনের কীর্তি দেখে এলাকায় বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অবশেষে প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার তিনজন। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌরে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে তরুণীর নাচের ভিডিওটি চুপিচুপি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন এক প্রতিবেশী। সেই ভিডিওটি পুলিশের কাছে জমা দিয়েই তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। 

ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বামীর চোখের সামনেই তাঁর বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করে নাচ করছিলেন এক তরুণী। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তারস্বরে গান চালিয়ে উদ্দাম নাচানাচি করছিলেন তিনজন। এমনকী স্বামীর সামনেই তাঁর বন্ধুর সঙ্গে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিতে নাচ করছিলেন ওই তরুণী। যা অত্যন্ত অশালীন বলেই মনে হয়েছে ওই প্রতিবেশীদের। 

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকেরই দাবি, ব্যক্তিগত মুহূর্ত লুকিয়ে ক্যামেরাবন্দি করাই অপরাধ। অনেকের মতে, গোপনীয়তা রক্ষা করেননি প্রতিবেশীরা। গানের আওয়াজে আপত্তি থাকলে, তাঁদের জানাতে পারতেন। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রায়ই ওই বাড়িতে এমন আসর বসে। তরুণীও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে মেলামেশা করেন একাধিক যুবকের সঙ্গে। 

গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রেম, প্রতারণা ও খুন। আবারও এক হাড়হিম কাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। প্রেম করে বিয়ের পরেও, স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে ২২ বছরের নেহা ও ২৬ বছরের নাগেশ্বরের বিয়ে হয়েছিল। নেহা আদতে নেপালের বাসিন্দা ছিলেন। রাজাবাড়ি গ্রামে দম্পতি থাকত। তাঁদের এক ছেলে রয়েছে। সুখের সংসারে আচমকা ঝড় বয়ে যায় ঠিক একবছর আগে‌। অন্য একটি মামলায় জেলে হেফাজতে ছিলেন নাগেশ্বর‌। সেই সময়েই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন নেহা। নাগেশ্বরের বন্ধু জিতেন্দ্রর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় নেহার। 

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, বাড়িতে ফিরেই নাগেশ্বর জানতে পারেন, নেহা জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। আবারও নেহাকে সংসারমুখী করার চেষ্টা করেন নাগেশ্বর। সন্তানের কথা ভেবে সম্পর্ক ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন স্ত্রীকে। এর মাঝেই জিতেন্দ্রর সঙ্গে বচসা শুরু হয় নাগেশ্বরের। যা ক্রমেই আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে নাগেশ্বরকে খুনের পরিকল্পনা করেন নেহা ও জিতেন্দ্র। 

১২ সেপ্টেম্বর বিসমিল নগরে নাগেশ্বরকে নিয়ে নেহা ঘুরতে যান। সেখানে যাওয়ার পর নাগেশ্বরকে মদ্যপান করান। নিজেও স্বামীর সঙ্গে মদ্যপান করেন নেহা। তবে ধৈর্য ধরেছিলেন, কখন নাগেশ্বর অচৈতন্য হয়ে পড়বেন। তুমুল মত্ত অবস্থায় নাগেশ্বর অচৈতন্য হতেই, ওড়না দিয়ে তাঁর হাত, পা ও মুখ বেঁধে দেন নেহা। এরপর জিতেন্দ্রর সঙ্গে মিলে নাগেশ্বরের শ্বাসরোধ করে খুন করেন।

খুনের প্রমাণ লোপাটের জন্য নাগেশ্বরের দেহ বাইকে তুলে, ২৫ কিলোমিটার দূরে নির্জন এক রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান। এরপর তাঁদের মুম্বইয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশ তদন্তে নেমেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। দীর্ঘ জেরায় নেহা ও জিতেন্দ্র খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেন। ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।