আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থার মানোন্নয়নে ত্রিপুরার রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে। রাজ্যের পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের কল্যাণে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ কমলপুরের হালাহালি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবন-সহ ধলাই জেলার ১৫টি প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে-আমবাসা ডিগ্রি কলেজের সংস্কার, কমলপুর ইংলিশ মিডিয়াম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন সংস্কার, সালেমা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি নির্মাণ, দু'টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, একটি বক্স কালভার্ট, তিনটি সিসি রোড, একটি পেভার ব্লক রোড, দুটি ইট বিছানো রাস্তা। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী আজ সালেমা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শান্তিরবাজারে ব্রিজ নির্মাণের শিলান্যাস করেন।

হালাহালি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে রাজ্য সরকারও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করছে। রাজ্যের অ্যাসপিরেশনাল ব্লকগুলির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "ত্রিপুরা তৃতীয় পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্য হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যে গুণগত শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। স্মার্ট ক্লাস, নিপুণ ত্রিপুরা, ছাত্রীদের বাইসাইকেল বিতরণ-সহ বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। জনজাতিদের শিক্ষার উন্নয়নে ২১টি একলব্য মডেল স্কুল নির্মাণের কাজ চলছে। আগের তুলনায় রাজ্যে এখন স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেক উন্নত হয়েছে।"

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পি.এম. কিষাণ, পি.এম. জনমন-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সব অংশের মানুষকে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের স্বনির্ভরতায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারও মহিলাদের স্বশক্তিকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ইতিমধ্যেই ৫৫ হাজার স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। ৫ লক্ষেরও বেশি মহিলা বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।" এদিন মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন। 

মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, "কাজের সাফল্যের নিরিখে রাজ্য সরকার ৩৫০টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। নীতি আয়োগও রাজ্য সরকারের কাজের প্রশংসা করেছে।" রাজ্যের সব অংশের মানুষের উন্নয়নের কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব, ধলাই জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, শিক্ষা দপ্তরের সচিব ডা. মিলিন্দ রামটেকে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, ধলাই জেলার জেলাশাসক বিবেক এইচ. বি, জেলা পুলিশ সুপার আর. দেশাই-সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ। এই অনুষ্ঠানে স্বচ্ছ ভারত মিশনের ৮টি আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি যাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।