আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রীকে চলন্ত লোকাল ট্রেনের সামনে ধাক্কা। মুম্বইয়ের মুলুন্ড স্টেশনে হাড়হিম কাণ্ড। পারিবারিক বিবাদের এক মর্মান্তিক পরিণতি দেখল যাত্রীরা। খুনের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ৪২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত রাজকুমার গুপ্তাকে গুজরাটের সুরাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা।

তদন্তকারীদের দাবি, গত ১৪ মার্চ সকালে মুলুন্ড স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে লোকাল ট্রেন ঢোকার মুখে স্ত্রী পুষ্পা গুপ্তাকে (৩৬) রেললাইনে ঠেলে ফেলে দেন রাজকুমার। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ওই ব্যক্তি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, খুন করে তিনি প্রথমে থানে যান, সেখান থেকে দাদর ও সিএসএমটি হয়ে ভিরার স্টেশনে পৌঁছন। শেষমেশ ভিরার থেকে গুজরাটগামী ট্রেনে চেপে সুরাটে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অভযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

মৃতার ভাই, সেনাকর্মী কমলেশ কুমার গুপ্তা জানান, দিদি ও জামাইবাবুর মধ্যে অশান্তি দীর্ঘদিনের। পরিস্থিতি এতটাই চরমে ওঠে যে, দিদি ও ভাগ্নেকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার দিন রেল স্টেশনে যাওয়ার পথেই কমলেশ খেয়াল করেন তাঁর পরিচয়পত্রটি বাড়িতে রয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সেটি আনতে পুনরায় তিনি ও তাঁর ভাগ্নে বাড়ি ফিরলে, রাগের মাথায় রাজকুমার তাঁদের ঘরে তালা বন্ধ করে দিয়ে স্টেশনে পৌঁছন। সেখানেই দিদিকে খুন করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে। কুর্লা জিআরপি-তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ ধারায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, স্রেফ অঙ্ক ভুল হয়েছে৷ আর তাতেই হাড়হিম কাণ্ড৷ সামান্য অঙ্ক ভুলের ‘অপরাধে’ পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলার দেউলি কালান গ্রামের একটি জেলা পরিষদ স্কুলে। গুরুতর চোট নিয়ে বর্তমানে ওই ১০ বছরের কিশোরী চিকিৎসাধীন।

স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ের হাতের অবস্থা দেখে চমকে উঠেছিলেন বাবা-মা। কালশিটে পড়া হাত নিয়ে মেয়ে জানায়, অঙ্ক মেলাতে না পারায় শিক্ষিকা তাকে বেধড়ক মেরেছেন। অভিযোগ, ঘটনার কথা জানাজানি হলে ছাত্রীকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন ওই শিক্ষিকা। এমনকী ছাত্রীর পরিবারকে ডেকে শাসানো হয় বলেও দাবি।

শেষ পর্যন্ত ‘চাইল্ড হেল্পলাইন’-এর হস্তক্ষেপে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেন। তাঁদের তৎপরতাতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ঘটনার জেরে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।