আজকাল ওয়েবডেস্কঃ  সামরিক সংঘাত থেকে কোনও সমস্যার রফাসূত্র বেরনো সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে আরও একবার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্যতম সদস্যদেশ অস্ট্রিয়া। প্রায় চার দশক পর অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর ক্রিশ্চান স্টোকার ভারত সফরে। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ফের একবার নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিলেন মোদি। পশ্চিম এশিয়া হোক বা ইউক্রেন, কোনও ভাবেই যুদ্ধের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এ বিষয়ে সহমত ভারত-অস্ট্রিয়া, দুই দেশই, বলে জানান তিনি। মোদি বলেন, “শক্তি প্রদর্শনের বদলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য হওয়া উচিত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির। আমরা চাই, ওই অঞ্চলে সংঘাতের বদলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ গড়ে উঠুক।”

বৈঠকের পর মোদি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বের সমস্যাগুলি দূর করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিরও আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার জন্য আরও জোটবদ্ধ ভাবে কাজ করা উচিত দেশগুলির।”

বরাবরই সংঘর্ষের পথ ছেড়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ভারত। অতীতের ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধেও একই অবস্থান দেশের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসাবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে অস্ট্রিয়ার অবস্থান ছিল ইউক্রেনের পক্ষে। তাই ইউরোপীয় দেশ অস্ট্রিয়াকে পাশে নিয়ে মোদির এই বার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে ভারতের। অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলরের এই ভারত সফর তাই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নয়া দিশা দেখাবে বলে আশা। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। স্বাক্ষরিত হয় দু’টি মউও।

 

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথোপকথন হয়। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত এবং সম্ভাব্য নতুন করে আলোচনার জল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠক কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার প্রায় ৪০ মিনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।এই প্রেক্ষাপটে মোদি ও ট্রাম্পের কথোপকথন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রায় ৪০ মিনিটের দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলাপচারিতা থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে।