আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত রাতেই প্রকাশ করা হয়েছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সাম (জেইই) অ্যাডভান্সড ফল। আইআইটি রুরকি-র তরফে ঘোষণা করা হল ফলাফল। মেধাতালিকায় সর্বভারতীয় স্তরে আইআইটি দিল্লি জোন থেকে শুভম কুমার প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছেন। পরীক্ষায় ৩৬০ নম্বরের শুভমের প্রাপ্ত নম্বর ৩৩০। এর আগে জেইই মেন পরীক্ষায় ১০০ পার্সেন্টাইল স্কোর করে সর্বভারতীয় স্তরে ষষ্ঠ র্যাঙ্ক অর্জন করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর খবর, শুভম কুমারের আদি বাড়ি বিহারের গয়ায়। তাঁর বাবা শিবকুমার সেখানে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের বিক্রেতা। মা কাঞ্চন দেবী একজন গৃহবধূ। ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া শুভম গত দুই বছর ধরে রাজস্থানের কোটার একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করেছেন। দশম শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করেই তিনি জেইই-র প্রস্তুতির জন্য কোটায় চলে যান।
শুভম জানান, তাঁর বাবা খুব বড় মাপের ব্যবসায়ী নন। আর্থিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তা কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাঁর মা ঘরের সমস্ত দায়িত্ব সামলেছেন। ছেলের পড়াশোনায় যাতে কোনও আঁচ না আসে, তাও নিশ্চিত করেছেন। দিদি বর্তমানে আইআইটি পাটনা থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিটেক করছেন। ফলে আইআইটি-তে সুযোগ পাওয়া যে সহজ নয়, তার আন্দাজ ছিল আগে থেকেই।
পরীক্ষা অভাবনীয় সাফল্যের পর শুভম বলেন, "বাবা আমার প্রস্তুতির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। তাঁর মুখের হাসি দেখতে পাওয়াটাই আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। এই সাফল্য আমার কল্পনাতীত।" প্রস্তুতির একেবারে শুরু থেকেই শুভম একমাত্র লক্ষ্য ছিল—আইআইটি বম্বে থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিটেক করা। আজ তাঁর সেই স্বপ্নই বাস্তবায়িত হল।
কিন্তু কী ভাবে এল এই সাফল্য? শুভম জানিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। এই সময়ে শুধুমাত্র বাবা-মা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন ব্যবহার করতেন তিনি। তাঁর মতে, এর ফলে অনেকটা সময় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা নিজে পড়াশোনা করতেন তিনি। তবে দিনে কত ঘণ্টা পড়ছেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলা। ক্লাসে যা পড়ানো হত, বাড়ি ফিরে আবার সেটাই রিভিশন দেওয়ার অভ্যেসও ছিল।
শুভম বলেন, "নিয়মিত প্রশ্নের সমাধান করার অভ্যাস ছিল। তবে শুধু সহজ প্রশ্ন নয়, যে বিষয়গুলিতে তিনি দুর্বল, সেগুলি নিয়েও চর্চা করতাম।"
তবে শুধুই পড়াশোনা নয়, প্রতি রবিবার ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন খেলে সময় কাটত। আর যখনই অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হতো, মন শান্ত করে পড়াশোনায় ফেরার জন্য ধ্যান করতেন এই কৃতি।
তবে কোটায় শিক্ষার পরিবেশ বহুল চর্চিত। তবে সেখানকার ইতিবাচক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ভরসা ছিল শুভম ও তাঁর পরিবারের। সেই ভরসাই শেষমেশ ফলপ্রসূ হল। বাস্তবায়িত হল তাঁর ছোটবেলা স্বপ্ন। এখন গন্তব্য আইআইটি বোম্বে।















