আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম ত্রি-দেশীয় সফরের প্রথম পর্যায়ে সাইপ্রাসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার লারনাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস। দুই নেতা লেমেসোসে ভারতীয় ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক গভীরতর হওয়ার সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সাইপ্রাস সফর কৌশলগত ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন?

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামান্ত বিরোধ রয়েছে। একইরম বিরোধ রয়েছে তুরস্ক ও সাইপ্রাসের মধ্যেও। তাছাড়া, ভৌগোলিক অবস্থানের নিরিখে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাইপ্রাস। এই পরিকাঠামো প্রকল্প ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এছাড়াও, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করতে চলেছে সাইপ্রাস। এই মুহূর্তে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ভারত।

ভারতীয় সম্প্রদায় এবং সাইপ্রাসের জনগণ লেমেসোসে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন। সোমবার মোদি নিকোসিয়ায় প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোডোলিডসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ডিজিটাল সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য কানাডায় যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্মানে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে এই সফর শেষ হবে। 

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটিই কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাইপ্রাস সফর। সেদেশে শেষ দু'টি সফর করেছিলেন ১৯৮২ সালে ইন্দিরা গান্ধী এবং ২০০২ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, উচ্চ-স্তরের যোগাযোগ ছিল বিরল।