আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে হঠাৎ নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে হুলস্থুল। এর নেপথ্যে আসল কারণ বাইরে এলো। জানা গিয়েছে, এটি ছবি প্রচারের ‘কৌশল’। পুলিশ জানিয়েছে, জানুয়ারির প্রথম ১৫ দিনে ৮০৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছিল, তা আদতে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, স্রেফ ব্যবসায়িক স্বার্থে এবং প্রচারের জন্যই এই ভয় সৃষ্টি করা হচ্ছে। লালবাজারের মতো দিল্লির পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও এমন কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে তৈরি একটি সিনেমার প্রচারের জন্য কিছু লোক টাকার বিনিময়ে ইন্টারনেটে এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর ফাঁদে পা দিয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালও বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, ‘‘১৫ দিনে ৮০৭ জন নিখোঁজ! দিল্লি এখন ভগবানের ভরসায় চলছে।’’
পাল্টা জবাবে পুলিশ পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে, জানুয়ারিতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আসলে গত বছরের তুলনায় কম। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে যেখানে ২,০৪২টি অভিযোগ জমা পড়ত, সেখানে এ বছর জানুয়ারিতে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৭৭৭-এ। অর্থাৎ, নতুন করে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
দিল্লি পুলিশের দাবি, ‘অপারেশন মিলাপ’ এবং 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের' বা এআই-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখোঁজদের উদ্ধারের কাজ আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত দশ বছরে উদ্ধার হওয়ার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। পুলিশ জানাচ্ছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিখোঁজ মহিলাদের মধ্যে যাঁদের শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই সংখ্যাটা কিন্তু ১,৬০৬ থেকে বেড়ে ৫,৫৭৬ হয়েছে। যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ তৈরী করেছে।
