আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রী এবং সন্তান নিখোঁজ। রটে গিয়েছিল, গয়নার লোভে মেয়ে আর নাতিকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন খোদ শ্বশুরমশাই। সেই অভিযোগে শ্রীঘরেও যেতে হয়েছিল মেয়ের বাপের বাড়ির লোকেদের। অথচ দু’বছর পর জানা গেল, যাঁর জন্য এত কাণ্ড, সেই বধূ দিব্যি ঘরকন্না করছেন ভিন রাজ্যে! একটি আধার কার্ডের ওটিপি আসতেই সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। উত্তরপ্রদেশের সন্দীপ কুমারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা প্রজাপতির। দম্পতির একটি ছেলেও হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গয়নাগাটি নিয়ে হঠাৎই উধাও হয়ে যান প্রিয়াঙ্কা। বাপের বাড়িতেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। চারদিকে রটে যায়, বাবা দয়ারাম নিজেই মেয়ে আর নাতিকে খুন করে সরযূ নদীতে ফেলে দিয়েছেন। শোকে পাথর স্বামী সন্দীপ আদালতের দ্বারস্থ হন। পুলিশ প্রিয়াঙ্কার বাবা-মা সহ চারজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

কিন্তু মূল ঘটনাটি ছিল একেবারেই আলাদা। বাপের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বিফল হন প্রিয়াঙ্কা। এরপর মনে শান্তি খুঁজতে তিনি পৌঁছে যান অযোধ্যায়। সেখানে রাজস্থানের যুবক মঙ্গল চন্দ্রের সঙ্গে আলাপ এবং প্রেম। সব ছেড়ে রাজস্থানে মঙ্গলের সঙ্গেই নতুন সংসার পাতেন প্রিয়াঙ্কা।

দু’বছর এভাবেই কেটেছিল। সম্প্রতি রাজস্থানে বসে নিজের আধার কার্ডের তথ্য আপডেট করতে যান প্রিয়াঙ্কা। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। আধার কার্ডের সঙ্গে পুরনো স্বামী সন্দীপের ফোন নম্বর যুক্ত থাকায় তাঁর মোবাইলে ওটিপি চলে আসে। সেই সূত্র ধরেই রাজস্থান থেকে প্রিয়াঙ্কাকে খুঁজে বের করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মেয়ের এমন কাণ্ডে হতবাক বাপের বাড়ির সদস্যরা প্রিয়াঙ্কাকে ত্যাজ্য করেছেন। ওদিকে সন্দীপ এখন তাঁর সন্তানের দাবি জানিয়েছেন। সামান্য আধার কার্ড যে মৃত মানুষকে এভাবে ‘জীবিত’ করে তুলবে, তা ভাবতেও পারেনি কেউ।