আজকাল ওয়েবডেস্ক: গভীর রাতে কোনও মহিলার কোনও পুরুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা তাঁর 'কল ডিটেইল রেকর্ড' সংরক্ষণের মাধ্যমে গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করার কোনও যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। এমনই জানিয়েছে দিল্লি আদালত।

অতিরিক্ত দায়রা জজ শুনালি গুপ্ত এই পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি এক ব্যক্তির দায়ের করা আপিল খারিজ করার সময় এই মন্তব্য করেন। আবেদনকারী ওই ব্যক্তি ট্রায়াল কোর্টের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ট্রায়াল কোর্ট পারিবারিক হিংসার একটি বিচারাধীন মামলায় তাঁর স্ত্রী ও অন্য এক ব্যক্তির 'কল ডিটেইল রেকর্ড' সংরক্ষণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।

২ জুনের এক আদেশে আদালত বলে, "গভীর রাতে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলাটা নিজে থেকেই কোনও মহিলার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ হতে পারে না। তবে যদি ওই মহিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরুষের কোনও অবৈধ বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রমাণ বা অভিযোগ থাকে।" আবেদনকারী স্বামী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কল রেকর্ডগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি, কারণ অভিযোগকারী (তাঁর স্ত্রী) গভীর রাতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করতেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিষেবা দানকারী সংস্থা হয়তো সেই রেকর্ড মুছে ফেলতে পারে।

ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বহাল রেখে দায়রা আদালত জানায় যে, যদিও গোপনীয়তার অধিকার নিরঙ্কুশ নয় এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তা সীমিত হতে পারে, তবুও অন্য কোনও ব্যক্তির কল রেকর্ড সংরক্ষণের অনুরোধের পেছনে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ থাকা আবশ্যক।
বিচারক বলেন, "ভারতীয় সমাজ এখন আর সেই আদিম অবস্থায় নেই যেখানে কোনও মহিলার পুরুষের সঙ্গে কথা বলাকে নিষিদ্ধ বা 'ট্যাবু' হিসেবে গণ্য করা হত।"

আদালত উল্লেখ করে যে, ট্রায়াল কোর্টে দাখিল করা আবেদন বা বর্তমান আপিল - কোনওটিতেই রেকর্ড সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে এমন কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয়নি। আদালত বলে, "মহিলারা এখন সব ক্ষেত্রে (যেমন বহুজাতিক কোম্পানিতে) কাজ করছেন এবং তাঁদের পুরুষ সহকর্মীও রয়েছেন। কেবল রাতে ফোনে কথা বলার কারণে... কোনও মহিলার মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড সংরক্ষণের দাবি তোলা যেতে পারে না।"

গোপনীয়তায় যেকোনও হস্তক্ষেপের পেছনে যৌক্তিক কারণ থাকা আবশ্যক, এই মত দিয়ে আদালত জানায় যে, ট্রায়াল কোর্ট সঠিকভাবেই আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বর্তমান আপিলটিও খারিজ করা হল।