বিভাস ভট্টাচার্য
না, হারিয়ে যায়নি। বিলুপ্তও হয়ে যায়নি। পাওয়া গিয়েছে তাদের সন্ধান। মিজোরামের জঙ্গলে ফের দেখা পাওয়া গিয়েছে মালায়ান সান বেয়ার-এর (Malayan sun bear)। বিশ্বে ভল্লুক সমাজে যার পরিচিতি সবচেয়ে ছোট আকৃতির ভল্লুক হিসেবে। ওই রাজ্যের বন বিভাগের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তাদের উপস্থিতি।
এবিষয়ে মিজোরামের দম্পা টাইগার রিজার্ভ-এর ফিল্ড ডাইরেক্টর অগ্নি মিত্র বলেন, 'একটা সময় পর্যন্ত এই ধারণাটাই শুরু হয়েছিল এই প্রজাতির ভল্লুক বোধহয় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এরপর বন বিভাগের পক্ষ থেকে জঙ্গলে জায়গায় জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়। সেই ক্যামেরাতেই জঙ্গলে এই ভল্লুকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। আমাদের দেশে এই ভল্লুক মিজোরাম ছাড়াও আছে অরুণাচল প্রদেশের জঙ্গলে।' ভারত ছাড়াও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের জঙ্গলও এই ভল্লুকের বাসস্থান।
সচরাচর ভল্লুক বলতে যে একটা বিশালদেহী বন্যপ্রাণীর কথা সকলের মাথায় ঘুরতে থাকে সেটা এই প্রজাতির ভল্লুক দেখলে আর থাকবে না। আয়তনে একটি পূর্ণবয়স্ক সাধারণ কুকুরের থেকেও এই ভল্লুক বড় নয়। মালায়ান সান বেয়ার-এর শারীরিক দৈর্ঘ্য সর্বাধিক ৪ ফুট থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। শারীরিক ওজন ২৫ থেকে ৬৫ কেজির মধ্যে থাকে। দম্পা টাইগার রিজার্ভ-এর ফিল্ড ডাইরেক্টর জানিয়েছেন, সাধারণত ভল্লুক সর্বভুক হলেও এই প্রজাতির ভল্লুক বেশি পছন্দ করে ফল খেতে এবং বিশেষ করে পেঁপে এদের খুবই পছন্দের খাবার। একা থাকাই এদের মূল পছন্দ।
ভল্লুকের পিত্ত ব্যবহার করে বিশেষত চিন দেশের লোকেরা এর সাহায্যে নানারকম ওষুধ তৈরি করেন। তার জন্য চোরা শিকারিদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে ভল্লুকরা।
কিন্তু এই প্রজাতির ভল্লুক আকারে ছোট হওয়ায় এবং মিজোরাম এবং অরুণাচল প্রদেশের জঙ্গল অত্যন্ত গভীর হওয়ায় চট করে এদের খোঁজ পাওয়া মুশকিল। ফলে চোরা শিকারিদের হাত থেকে এরা অনেকটাই রক্ষা পায় বলে জানিয়েছেন ফিল্ড ডিরেক্টর।
















