আজকাল ওয়েবডেস্ক: দমকল ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কাজ কি কেবল আগুন নেভানো বা কোনও রোমহর্ষক অভিযানে মানুষের প্রাণ বাঁচানো? উত্তরটা যে 'না', তা প্রমাণ করল কেরলের কানহানগড় জেলা হাসপাতালের একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। গত ২৫শে মার্চ রাতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা যখন এক ৪৬ বছর বয়সী ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে গিয়ে এক অদ্ভুত সমস্যার মুখে পড়েন, তখন তাঁরা শেষমেশ দমকল বাহিনীর সাহায্য নিতে বাধ্য হন। ওই ব্যক্তির গোপনাঙ্গে একটি লোহার ওয়াশার আটকে গিয়েছিল, যা বের করা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তাঁর অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। টানা তিন দিন ধরে ওই লোহার ওয়াশারটি সেখানে আটকে থাকায় তাঁর গোপনাঙ্গে মারাত্মক ফোলাভাব দেখা দিয়েছিল এবং প্রস্রাব করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কানহানগড় ফায়ার স্টেশনের অফিসার পি ভি পবিত্রন জানিয়েছেন যে, রাত ১০টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তাঁরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক ছিল যে, ওই লোহার ওয়াশারটি অত্যন্ত শক্তভাবে তাঁর গোপনাঙ্গের চারদিকে চেপে বসেছিল।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীকে অচেতন করার পর দমকলের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অস্ত্রোপচার চালায়। আঙুলে আটকে যাওয়া আংটি কাটার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ যন্ত্র ‘রিং কাটার’ দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ওই লোহার ওয়াশারটি কেটে ফেলা হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিশ্চিত করেন যে, কাটার সময় রোগীর শরীরের কোনও  অংশে যেন বিন্দুমাত্র চোট না লাগে। 

এই বিচিত্র এবং বেদনাদায়ক পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, তিনি যখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, তখন কেউ একজন দুষ্টুমি করে ওই ওয়াশারটি তাঁর গোপনাঙ্গে পরিয়ে দিয়েছিল। দমকল বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং অপারেশন, যেখানে চিকিৎসাবিদ্যা এবং কারিগরি দক্ষতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা গেছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং তিনি বড় ধরণের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।