আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক হাতে ধরা ১০ দিনের সন্তান, অন্য হাতে কলম। মাতৃত্ব আর পড়াশোনার লড়াইয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন মহারাষ্ট্রের নান্দেদ শহরের তরুণী শীতল চন্দ্রকান্ত চিত্তে। বুধবার কোলের শিশুকে নিয়েই তিনি হাজির হয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিকের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষার্থীর এই জেদ দেখে মুগ্ধ কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পরীক্ষাকেন্দ্রে খুলে ফেলল এক বিশেষ ‘মাতৃস্নেহ কক্ষ’।

জানা গিয়েছে, একুশ বছরের শীতল শ্রী বাসেস্বর কলেজের ছাত্রী। দুই বছর আগে বিয়ে হলেও পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে দেননি তিনি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি, সন্তান প্রসবের ঠিক দু’দিন পরেই তিনি বসেছিলেন ইংরেজি পরীক্ষায়। বুধবার ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান। বাড়িতে দেখভালের কেউ না থাকায় একরত্তিকে সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান তিনি।

শীতলের এই জেদকে কুর্নিশ জানিয়ে নান্দেদের ‘পিপলস কলেজ’ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই পরীক্ষাকেন্দ্রেই তৈরি করা হয় একটি আলাদা ঘর, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাতৃস্নেহ কক্ষ’। সেখানে শিশুর জন্য দোলনার ব্যবস্থাও করা হয়। একদিকে দোলনায় শিশু বিশ্রাম নিয়েছে, অন্যদিকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিয়েছেন মা।

শীতল জানান, “এই পরীক্ষা আমার ভবিষ্যতের জন্য খুব জরুরি। স্বামী কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে বাচ্চার দেখাশোনা করার কেউ ছিল না। তাই ওকে সঙ্গে নিয়েই চলে এসেছি।” পরিবারের পূর্ণ সমর্থনে খুশি এই লড়াকু পরীক্ষার্থী।

জেলা শিক্ষা আধিকারিক মাধব সালগার জানিয়েছেন, আগামী দিনে এই ধরনের ছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। মহারাষ্ট্র বোর্ডের লাতুর ডিভিশনের সভাপতি সুধাকর তেলাং-এর দাবি, রাজ্যে এই প্রথম কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন মানবিক ও অভিনব পদক্ষেপ করা হল। সব মিলিয়ে, প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে শীতলের এই পরীক্ষা দেওয়ার ছবি এখন নেটদুনিয়ায় অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।