আজকাল ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের জনপ্রিয় কয়েকটি বিরিয়ানি চেনকে নিয়ে আয়কর তদন্তে এখন রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, রেস্তোরাঁর বিলিং সিস্টেমে কারসাজি করে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার আয় গোপন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এটি কেবল কয়েকটি দোকানের বিষয় নয়, বরং গোটা প্রক্রিয়াতে ছড়িয়ে রয়েছে এই জালিয়াতির জাল।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বছরের নভেম্বরে হায়দরাবাদের তিনটি বড় বিরিয়ানি ব্র্যান্ডের অফিস ও তাদের কর্তাদের বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দপ্তর। লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল নথি ও ইউপিআই লেনদেনের হিসাব মেলানো। সেই তল্লাশিতেই উঠে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীরা দেখেন, রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যবহৃত বিলিং সফটওয়্যারে এমন এক বিশেষ কারিগরি করা আছে, যা দিয়ে অনায়াসেই বিক্রির তথ্য মুছে ফেলা যায়।
গোয়েন্দারা প্রায় ৬০ টেরাবাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দেশজুড়ে লক্ষাধিক রেস্তোরাঁ এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে যাতে 'বাল্ক ডিলিট' অপশন রয়েছে। এর মাধ্যমে এক মাসের সমস্ত বিক্রির রেকর্ড এক নিমেষে মুছে ফেলা সম্ভব। ফলে খাতায়-কলমে বিক্রি কম দেখিয়ে মোটা অঙ্কের কর ফাঁকি দিচ্ছিল ব্যবসায়ীরা।
প্রাথমিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকার বিক্রির হিসাব লুকানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেই ৫ হাজার কোটি টাকার গরমিল ধরা পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যেখানে আয়ের কোনও হদিসই ছিল না, সেখানে এক একটি প্যান কার্ডের আড়ালে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আয়কর দপ্তর এখনও সরকারিভাবে মুখ না খুললেও, মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে জোরকদমে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও বড় অঙ্কের জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে।
