আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনবার বিষ খাইয়েও মারতে পারেননি স্ত্রীকে। বেছে নিলেন 'অন্য পথ'। ষড়যন্ত্র করে শেষমেশ পথ দুর্ঘটনার ছক কষে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্ত্রীকে পিষে মারলেন স্বামী। মহারাষ্ট্রের বুলধানার এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী প্রকাশ গাওয়ান্ডে-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ মার্চ স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন পেশায় শিক্ষিকা বৃষালী। যাত্রাপথে আচমকা একটি টাটা ইন্ট্রা গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমে সাধারণ দুর্ঘটনা মনে হলেও, একটি নির্দিষ্ট নম্বর প্লেটের গাড়ির গতিবিধি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ গাড়ির চালক মণীশ সূর্যবংশীকে আটক করে।

জেরার মুখে মণীশ স্বীকার করে যে, এটি কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। সে জানায়, প্রকাশের থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে মঙ্গেশ চুরকর নামের এক ব্যক্তি এই খুনের পরিকল্পনা করে। মঙ্গেশই মণীশকে দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে বৃষালীকে খুন মারার ব্যবস্থা করেছিল।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এর আগে তিনবার খাবারে বিষ মিশিয়ে স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন প্রকাশ। কিন্তু সেই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই তিনি সুপারি কিলার নিয়োগ করেন। সত্য সামনে আসতেই তিন অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, শাশুড়ির নাক কাটল জামাই! ভয়াবহ।  স্রেফ পারিবারিক বিবাদের জেরে শাশুড়ির নাক কাঁচি দিয়ে কেটে নিয়ে চম্পট দিল জামাই। শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জালোর জেলার সারওয়ানা থানা এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম সোহনলাল। অভিযোগ, শাশুড়ির নাকের কাটা অংশটি হাতে নিয়েই এলাকা ছেড়েছে সে।

পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত মহিলার নাম কাইলি দেবী (৫২)। বর্তমানে তিনি গুজরাটের মেহসানার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, বছর ছয়েক আগে সোহনলালের সঙ্গে কাইলি দেবীর মেয়ে সরিতার বিয়ে হয়েছিল। রাজস্থানের প্রচলিত ‘আটা-সাটা’ প্রথা মেনে এই বিয়ে হলেও গত এক বছর ধরে দম্পতির মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল। সরিতা স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন। বিবাদ মেটাতে একাধিকবার সমাজিক স্তরে বৈঠক হলেও কোনও সমাধান হয়নি।

শনিবার দুপুরে ফের পরিবারে অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযুক্ত জামাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিকেলে থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন কাইলি দেবী। অভিযোগ, পথেই তাঁর ওপর চড়াও হয় সোহনলাল। আচমকাই পকেট থেকে কাঁচি বের করে শাশুড়ির নাকে কোপ বসায় সে। যন্ত্রণায় মহিলা কাতরাতে শুরু করলে তাঁর নাকের কাটা অংশটি নিয়েই দৌড় দেয় সোহনলাল।

রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেহসানার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাইলি দেবীর স্বামী বাবুলাল খিচড় জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সোহনলাল বিশ্বাস করত যে তার শাশুড়িই এই সব অশান্তির মূলে। কাইলি দেবীই তাঁর মেয়েকে উস্কানি দিয়ে ঘর ভাঙছেন। এই আক্রোশ থেকেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। সারওয়ানা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জামাই আপাতত পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।