আজকাল ওয়েবডেস্ক: পারিবারিক অশান্তির জেরে ফের চরম পরিণতি। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের লাগাতার মানসিক নির্যাতন ও হুমকির জেরে প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার এক যুবক। নিথর দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য শাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালিকাকে দায়ী করে গিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম গৌরব জ্ঞানেশ্বর বড়গুজর। জলগাঁওয়ের এরান্দোল তালুকার ভাতখেড়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ওপর টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখানো ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গৌরবের লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে নির্দিষ্টভাবে তিনজনের নাম উঠে এসেছে- শাশুড়ি অনিতা বড়গুজর, শ্যালিকা গৌরী গড়ুড় এবং শ্যালক ভাটু গড়ুড়। ওই চিঠিতে গৌরব জানিয়েছেন, এই তিনজন ক্রমাগত হুমকি দিত। দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইতিমধ্যেই কসোদা থানায় ওই তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সুইসাইড নোটের হাতের লেখাও। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷ 

অন্যদিকে, পুলিশের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলেন বছর তেইশের যুবক। কিন্তু তাতেও মন গলেনি। অভিযোগ, প্রকাশ্যেই তাঁকে সপাটে চড় কষান এক পুলিশকর্মী। সেই অপমানের জেরে নাকি পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আতঙ্ক- ঠিক কোন কারণে যুবক নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে ৫ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইন্দোরের তাপ্তি কমপ্লেক্সে রাজ মাকোয়ানা নামে ওই যুবকের এহেন আকস্মিক মৃত্যুতে হুলুস্থুল এলাকা।

পরিবার সূত্রে খবর, রাজ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই সঙ্গে ছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। বুধবার রাতে গরম আর অস্বস্তি বাড়ায় একটু খোলা হাওয়া খেতে আবাসনের নিচে নেমেছিলেন তিনি। সেখানেই নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। রক্ষী খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের একটি টহলদারি দল।

রাজের বোন নিকিতা জানিয়েছেন, তাঁরা পুলিশকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তাঁর দাদা অসুস্থ এবং নিয়মিত ওষুধ খান। নিকিতার কথায়, “দাদা পুলিশকে বলেছিল, ‘আই অ্যাম সরি’। কিন্তু অফিসার কথা না শুনেই ওকে চড় মারেন।” বাড়ি ফিরে রাজ অত্যন্ত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ির লোকজনকে বারবার বলছিলেন, “পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যাবে, আমি কোথাও লুকোবো।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ৫ তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

পুলিশ অবশ্য মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার রাজেশ দন্দোতিয়ার দাবি, রাজ অশান্তি করছেন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল এবং বুঝিয়ে-সুজিয়ে তাঁদের ঘরে পাঠিয়ে দেয়। এর প্রায় ৪৫ মিনিট পর রাজ ঝাঁপ দেন।

বর্তমানে রাজের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

ছেলে মৃত্যুতে শোকাতুর মাকোয়ানা পরিবারের একটাই প্রশ্ন- সামান্য একটু খোলা হাওয়ার খোঁজে বাইরে বেরিয়ে কেন তাঁদের ছেলেকে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো? খোদ আইনরক্ষকদের আচরণই কি তবে এক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল?