আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে মহারাষ্ট্র সরকারের 'মুখ্যমন্ত্রী–মাঝি লড়কি বহিন যোজনা'–র অধীনে দু’মাসের ভাতা  একসঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ও বিরোধী কংগ্রেসের মধ্যে এই ইস্যুতে সরাসরি সংঘাত দেখা দিয়েছে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের কিস্তি মিলিয়ে মোট ৩,০০০ টাকা আগামী ১৪ জানুয়ারি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। কিন্তু এই দিনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরই রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই সময় নির্বাচন-সংক্রান্ত আচরণবিধি (মডেল কোড অব কন্ডাক্ট) কার্যকর রয়েছে।

এই ঘোষণার পরপরই মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি) রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের ঠিক আগের দিনে দু’মাসের কিস্তি একসঙ্গে দেওয়া কার্যত একটি “সমষ্টিগত সরকারি ঘুষ”, যার উদ্দেশ্য এক কোটিরও বেশি মহিলা ভোটারকে প্রভাবিত করা। কংগ্রেসের  দাবি, এটি স্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থপ্রদান বন্ধ  রাখা উচিত।

কংগ্রেসের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সুচিন্তিতভাবেই এই সময় বেছে নিয়েছে, যাতে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়া যায়। দলের মতে, সামাজিক প্রকল্পের আড়ালে সরকারি কোষাগারের টাকা ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।

তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছে রাজ্য সরকার। রাজস্বমন্ত্রী ও নাগপুর জেলার অভিভাবক মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য, লড়কি বহিন যোজনা কোনও নির্বাচনী ঘোষণা নয়, বরং বহু আগেই চালু হওয়া একটি ধারাবাহিক কল্যাণমূলক প্রকল্প।

বাওয়ানকুলে বলেন, “এই প্রকল্প রাজ্যের সর্বত্র কার্যকর। মাত্র ২৯টি পুরসভার নির্বাচনের জন্য গোটা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাকে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।” তাঁর যুক্তি, নির্বাচন থাকলেই যদি কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে প্রায় আড়াই কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। নির্বাচনের কারণে টাকা আটকে দিলে তাঁদের বাস্তব সমস্যার মুখে পড়তে হবে। কল্যাণমূলক প্রকল্প রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অন-অফ করা যায় না।” সরকারের দাবি, সময়মতো টাকা দেওয়াই প্রশাসনিক দায়িত্ব, এবং তা নির্বাচনসূচির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।

একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বাওয়ানকুলে অভিযোগ করেন, এই প্রকল্প শুরুর পর থেকেই কংগ্রেস তা বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রাক্তন এমপিসিসি সভাপতি নানা পাটোলের উদ্যোগে হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল লড়কি বহিন যোজনাকে থামিয়ে দেওয়া।

এই পরিস্থিতিতে এখন সকলের নজর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দিকে। কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়—অর্থপ্রদান চালু থাকবে নাকি ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হবে তার উপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ। তবে স্পষ্টতই, মহিলা-কেন্দ্রিক এই কল্যাণ প্রকল্পকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।