আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর জেলার জওয়াসিয়া গ্রামের একটি শেষকৃত্যের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে চোখে জল নিয়ে গানের তালে তালে নাচলেন তিনি। অম্বালাল প্রজাপত নামে ওই ব্যক্তির নাচ বর্তমানে রীতিমত ভাইরাল। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি সোহনলাল জৈন বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার সময় অম্বালালকে একটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেই চিঠিতে লেখা ছিল তাঁর একটি অনুরোধ।
তিনি লিখেছিলেন, ‘কোনও কান্না নয়, কোনও নীরবতা নয়, আমার শেষকৃত্য যেন হয় উল্লাসে, ঢোলের তালে, গান আর নাচের মধ্য দিয়ে। তুমিও আমার শেষকৃত্যের সময় নাচবে এবং আমাকে হাসিখুশি মনে বিদায় দেবে’। বন্ধুর সেই অদ্ভুত ইচ্ছা অম্বালাল শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করলেন। সোহনলালের মৃত্যুর পর গ্রামের রাস্তায় শেষ যাত্রা চলাকালীন তিনি ঢোলের তালে নাচতে থাকেন, চোখে জল থাকলেও পায়ে থেমে ছিল না ছন্দ। শোক আর আনন্দের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল সেই মুহূর্তে। স্থানীয়রা প্রথমে অবাক হলেও পরে আবেগে ভেসে যান। কেউ কেউ চুপচাপ তাকিয়ে ছিলেন, আবার অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। পরে অনেকেই বলেন, এমন বন্ধুত্ব এই যুগে খুব কম দেখা যায়।
अंतिम यात्रा में डांस करना कह कर गए थे सोहनलाल जैन
— ????????Jitendra pratap singh???????? (@jpsin1)
मन्दसौर :- जवासिया ग्राम में एक दोस्त ने दोस्त से किया वादा पूरा किया, उसकी अंतिम यात्रा में डांस करना कह कर गए थे सोहनलाल जैन, आज अंबालाल प्रजापत ने अपने दोस्त की शव यात्रा के सामने किया डांस। pic.twitter.com/Ki7IBUjnKJTweet by @jpsin1
অম্বালাল সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, ‘আমি আমার বন্ধুকে কথা দিয়েছিলাম, তার শেষ যাত্রায় আমি নাচব, আর আমি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। ও আমার শুধু বন্ধু নয়, আমার ছায়ার মতো ছিল’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরোহিত রাকেশ শর্মা বলেন, ‘এমন সম্পর্ক দেখা সত্যিই বিরল। সোহনলাল চিঠি লিখে যে ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন, তা অম্বালাল যেভাবে পালন করলেন, সেটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বন্ধুত্বের এমন নিদর্শন যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক’। সোহনলালের লেখা চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, “আমার শেষকৃত্যের সময় অম্বালাল আর শঙ্করলাল একসঙ্গে নাচবে। আর যদি কোনওদিন জেনে বা না জেনে কোনও ভুল করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দিও’। সোহনলালের পরিবার জানিয়েছে, এই মৃত্যু তাদের ভেঙে দিলেও, বন্ধুর শেষ ইচ্ছা পালন করতে দেখে তাঁরা আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। এক আত্মীয় বলেন, ‘এমন বন্ধুত্বের প্রকাশ দেখে আবার চোখে জল চলে এল’।
