আজকাল ওয়েবডেস্ক: কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইনস্টামার্ট হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ভারতের প্রথম 'অন-ডিমান্ড' (চাহিদা-ভিত্তিক) এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি পরিষেবা চালু করেছে, যা সরাসরি ইনস্টামার্ট অ্যাপের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।
বেঙ্গালুরুতে একটি পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই পরিষেবাটি চালু করা হয়েছে। যার ফলে গ্রাহকরা এলপিজি সিলিন্ডার অর্ডার করতে পারবেন এবং তা সরাসরি তাদের বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
'দ্য ইকোনমিক টাইমস' এবং 'ডেকান হেরাল্ড'-এর তথ্য অনুযায়ী, আজ (১৫ জুলাই) বেঙ্গালুরুর সুব্রহ্মণ্যপুরা এলাকায় এই পাইলট পরিষেবাটি শুরু হয়েছে।
ইনস্টামার্ট ও এইচপিসিএল-এর এই যৌথ উদ্যোগের আওতায়, গ্রাহকরা এইচপিসিএল-এর সদ্য চালু হওয়া ১০ কেজির কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার 'এইচপি নাভ্যা' এবং প্রচলিত পাঁচ কেজির মেটাল বা ধাতব এলপিজি সিলিন্ডার- উভয়ই অর্ডার করতে পারবেন।
এর জন্য এলপিজি সংযোগের প্রয়োজন নেই
ইনস্টামার্ট অ্যাপের মাধ্যমে এই সিলিন্ডারগুলো কেনার জন্য গ্রাহকদের কোনও গার্হস্থ্য এলপিজি সংযোগ থাকার প্রয়োজন নেই। যারা প্রথমবারের মতো এই পরিষেবাটি নেবেন, তাদের সিলিন্ডার গ্রহণের আগে পরিচয় যাচাইকরণ এবং ডেলিভারি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তী অর্ডারগুলোকে 'রিফিল' বা পুনরায় পূর্ণ করার প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নতুন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার সময় খালি এইচপিসিএল সিলিন্ডারটি ফেরত নেওয়া হবে।
ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী পেশাজীবী, ভাড়াটিয়া, ছোট পরিবার এবং অস্থায়ী আবাসনে বসবাসকারী- যাদের রান্নার গ্যাসের জন্য একটি সুবিধাজনক ও কম জায়গার প্রয়োজন মেটানো দরকার- তাদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবাটি চালু করা হয়েছে।
'দ্য ইকোনমিক টাইমস'-এর তথ্যমতে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এইচপিসিএল-এর নতুন ১০ কেজির কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার 'এইচপি নাভ্যা'-র বাণিজ্যিক বাজারজাতকরণও শুরু হল।
প্রচলিত স্টিলের সিলিন্ডারের তুলনায় হালকা এবং মরচে-প্রতিরোধী বিকল্প হিসেবে এই সিলিন্ডারটি তৈরি করা হয়েছে। এর বডি বা কাঠামোটি আধা-স্বচ্ছ, যার ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই গ্যাসের পরিমাণ বা স্তর পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
অ্যাপার্টমেন্ট, ছোট পরিবার এবং যারা সুবিধাজনক একটি অতিরিক্ত বা দ্বিতীয় এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজছেন, তাদের জন্য এই পণ্যটি বিশেষভাবে উপযোগী।
ইনস্টামার্টের মাধ্যমে আসা সমস্ত অর্ডার এইচপিসিএল-এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পূরণ করা হবে এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তা ও বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত কর্মীরা ডেলিভারির কাজটি সম্পন্ন করবেন।
অংশীদারিত্বে যুক্ত কোম্পানিগুলো
এই পরিষেবা চালুর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইনস্টামার্ট -এর সিইও অমিতেশ ঝা বলেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির পরিষেবা মুদি পণ্যের গণ্ডি পেরিয়ে গৃহস্থালির আরও একটি জরুরি পণ্য বা পরিষেবার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝা বলেন, "মুদি পণ্যের বাইরেও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ইনস্টামার্ট তার পরিষেবার পরিধি অনেক বিস্তৃত করেছে। এইচপিসিএল -এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমরা সেই সুবিধাকে গৃহস্থালির একটি জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও নিয়ে আসছি। এর ফলে গ্রাহকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার মান বজায় রেখেই ইনস্টামার্টের মাধ্যমে এলপিজি পাওয়া সম্ভব হবে।"
এইচপিসিএল-এর ডিরেক্টর (মার্কেটিং) অমিত গর্গ জানিয়েছেন, এই বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল প্রত্যাশা পূরণের ওপর কোম্পানিটি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ডেকান হেরাল্ডের তথ্যমতে গর্গ বলেন, "গ্রাহকদের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তা পূরণে উদ্ভাবনী সমাধান প্রদানে এইচপিসিএল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইনস্টামার্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা দ্রুত, সুবিধাজনক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবস্থার সাহায্যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারব, যা 'এইচপি নাভ্যা কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার'-এর সহজলভ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।"
আলাদাভাবে, দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গ জানিয়েছেন যে এইচপিসিএল বিশ্বস্ত ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চ্যানেলের মাধ্যমে 'নয়া ভারত'-এর কাছে এলপিজি-র সহজলভ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক পরিষেবার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখনও ঘোষণা হয়নি
বেঙ্গালুরুতে এই পরিষেবা চালু করার বিষয়টি বর্তমানে একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প। তবে ইনস্টামার্ট বা এইচপিসিএল- কোনও পক্ষই এখনও জানায়নি যে, কবে নাগাদ অন্যান্য শহরে এই পরিষেবা সম্প্রসারিত করা হবে।
বর্তমানে ইনস্টামার্ট ভারতের ১৩১টিরও বেশি শহরে ৫০,০০০-এরও বেশি পণ্য বা 'স্টক কিপিং ইউনিট' সরবরাহ করে থাকে। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, এলপিজি পরিষেবা চালুর মাধ্যমে তারা এমন সব পণ্যের সরবরাহ শুরু করল, যেখানে গ্রাহকের আস্থা বা বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, এইচপিসিএল এই সহযোগিতাকে প্রযুক্তি-চালিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
















