আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুডানকুলম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টকে ঘিরে বড়সড় সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কুখ্যাত র্যা নসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস ডার্ক ওয়েবে প্রকল্প-সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। ওই নথিগুলির মধ্যে প্ল্যান্টের কিছু কাঠামোর নকশা, সরবরাহকারী সংস্থার তথ্য, বৈঠকের নথি, পরিদর্শন রিপোর্ট, যন্ত্রপাতির মূল্যায়ন এবং বিমা সংক্রান্ত তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই নথিগুলিকে ওয়ার্ল্ড লিকস অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলে দাবি করেছে। তবে সংবাদ সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রকাশিত নথিগুলির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
রিলায়েন্স কী জানাল?
অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিষেবা প্রদানকারী ইয়োটার হোস্ট করা একটি সার্ভারে আংশিক ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থার দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সরকারের নজরে আনা হয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কোন প্রকল্পের তথ্য ফাঁসের দাবি?
তামিলনাড়ুর কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতের সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বর্তমানে নির্মীয়মাণ ইউনিট-৩ এবং ইউনিট-৪-এর কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব ২০১৮ সালে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পায়। এই দুই ইউনিট ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা এবং মিলিতভাবে প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত নথিগুলির মধ্যে ইউনিট-৩ ও ইউনিট-৪-এর ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের নকশা, একটি কমন কন্ট্রোল রুমের সম্ভাব্য ফ্লোর প্ল্যান, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা, পরিদর্শনের ছবি এবং বিভিন্ন প্রকৌশল সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এগুলি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মূল প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে ভারতের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিইআরটি। সূত্রের দাবি, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং রিলায়েন্সের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ চলছে।
অন্যদিকে ইয়োটা জানিয়েছে, গত ২৯ মে তাদের নজরে একটি সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, সম্ভাব্য র্যা নসমওয়্যার কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা হয়েছিল। পরে জুনের শেষে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানায় যে, বাইরের হুমকিদাতারা ডেটা ফাঁসের দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, কুডানকুলম পারমাণবিক কেন্দ্র এর আগেও ২০১৯ সালে একটি সাইবার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছিল। তখন উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ম্যালওয়্যার প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে শনাক্ত হলেও, এনপিসিআইএল জানিয়েছিল যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল পরিচালন ব্যবস্থায় তার কোনও প্রভাব পড়েনি।
বর্তমান ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তথ্য ফাঁসের প্রকৃত পরিধি এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই কাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
















