ভারতের প্রতিটি রাজ্যেরই নিজস্ব খাদ্যসম্ভার রয়েছে। উত্তর কর্ণাটকের এক বিশেষ পদ হল কালাবুরাগির জোয়ারের রুটি। জোয়ারের আটা দিয়ে তৈরি এই রুটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের জন্যও সমান জনপ্রিয়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি বানাতে খুব বেশি উপকরণেরও প্রয়োজন হয় না।
2
12
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে এই রুটির উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই রুটি পেট ভরায় এবং সুষম আহারের অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।
3
12
কর্ণাটকের কালাবুরাগি জেলা, যা আগে গুলবর্গা নামে পরিচিত ছিল, সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার এই রুটি। উত্তর কর্ণাটকের প্রধান খাদ্যশস্য জোয়ার। তাই স্থানীয় খাদ্যতালিকায় এই রুটির বিশেষ স্থান রয়েছে।
4
12
কেন এই রুটি এত স্বাস্থ্যকর? জোয়ার মোটা দানাশস্য বা মিলেট গোত্রের। এতে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। উচ্চ ফাইবারের কারণে এই রুটি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। সেই কারণেই যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের কাছে জোয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয়।
5
12
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এই রুটি উপকারী বলে মনে করা হয়। জোয়ারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম, অর্থাৎ এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। তাই ডায়াবেটিস-বান্ধব খাদ্যতালিকায় জোয়ারজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে খাদ্যাভ্যাসে কোনও পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
6
12
হজমের ক্ষেত্রেও জোয়ারের ফাইবার পাচনতন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এই রুটি খেলে শরীর হালকা লাগে এবং দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় থাকে। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ফাইবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
7
12
পাশাপাশি জোয়ারে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক বলে মনে করা হয়৷ জোয়ার প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেন-মুক্ত। তাই গ্লুটেনজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
8
12
এই রুটি বানাতে লাগবে জোয়ারের আটা ২ কাপ, গরম জল প্রায় ১ থেকে দেড় কাপ, আধ চামচ নুন, শুকনো জোয়ারের আটা বেলার জন্য।
9
12
একটি বড় পাত্রে জোয়ারের আটা ও লবণ মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে গরম জল ঢেলে নরম ও মসৃণ মণ্ড তৈরি করুন। মণ্ডটি ১০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এরপর সমান আকারের লেচি কেটে নিন।
10
12
একটি প্লাস্টিক শিট বা কলাপাতার উপর শুকনো আটা ছড়িয়ে হাত দিয়ে আলতো চাপতে চাপতে গোল রুটির আকার দিন। চাইলে বেলনও ব্যবহার করতে পারেন।
11
12
গরম তাওয়ায় রুটিটি দিন। এক পিঠ সেঁকা হলে উল্টে দিন। এরপর সরাসরি আগুনে বা তাওয়ার উপর হালকা চাপ দিয়ে ফুলিয়ে নিন। গরম গরম ঘি বা মাখন মাখিয়ে পরিবেশন করুন।
12
12
স্থানীয় পদের সঙ্গেই এর স্বাদ খোলে সবচেয়ে বেশি। সাধারণত বেগুনের পুর ভরা তরকারি, বাদামের ঝোল, ডাল কিংবা ঝাল চাটনির সঙ্গে এই রুটি খাওয়া হয়। অনেক জায়গায় রসুন, তিল ও চিনাবাদাম দিয়ে তৈরি চাটনির সঙ্গেও পরিবেশন করা হয়। সুস্থ থাকতে চাইলে আপনিও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন কালাবুরাগির এই 'স্বাস্থ্যের ভাণ্ডার'।