আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে বরাবরই একটি সময়সাপেক্ষ ও ঝক্কির কাজ। সরকারি দপ্তরে দীর্ঘ লাইন, একাধিক নথিপত্র, বারবার অফিসে যাতায়াত এবং দালালদের উপর নির্ভরশীলতা—সব মিলিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এই সমস্যার সমাধান করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বিহার সরকার।
৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাড়িতে বসেই সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন পরিষেবা চালু করেছে সরকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবীণরা নিজেদের বাড়ি থেকেই জমি, ফ্ল্যাট বা প্লটের রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, তেমনই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় দালালদের প্রভাবও অনেকটাই হ্রাস পাবে।
'সবকা সম্মান, জীবন আসান' উদ্যোগ
এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে 'সবকা সম্মান, জীবন আসান' । সম্প্রতি হাজিপুর রেজিস্ট্রেশন অফিসে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাটনা ও হাজিপুর-সহ মোট ১০টি রেজিস্ট্রেশন অফিসের মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে বিহারের অন্যান্য জেলাতেও এই সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কীভাবে মিলবে এই পরিষেবা?
এই পরিষেবা নিতে হলে প্রথমে বিহার সরকারের ই-রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স যাচাইয়ের পর নির্দিষ্ট দিনে একটি মোবাইল রেজিস্ট্রেশন ইউনিট তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাবে।
এই বিশেষ দলে থাকবেন সরকারি আধিকারিকরা। তাঁদের কাছে থাকবে ইন্টারনেট-সংযুক্ত ল্যাপটপ, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ওয়েবক্যাম এবং ডিজিটাল সিগনেচার ডিভাইস। আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা এবং বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পর বাড়িতেই সম্পূর্ণ হবে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের কাজ।
প্রক্রিয়া শেষ হলে নিবন্ধিত সম্পত্তির দলিল আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে সুরক্ষিত পিডিএফ আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
দালালদের দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্য
সরকারের মতে, এই পরিষেবার অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হল সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় দালালদের প্রভাব কমানো। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ ও বিধবাদের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে দালালের সাহায্য নিতে হত।
অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে দালালরা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নথি আটকে রাখতেন বা অযথা আপত্তি তুলে আবেদনকারীদের হয়রানি করতেন। কোথাও কোথাও স্ট্যাম্প ডিউটি কম দেখানোর জন্য সম্পত্তির মূল্য কমিয়ে দেখানো বা বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, ই-চালান এবং ই-স্ট্যাম্পের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে অতিরিক্ত বা গোপন চার্জ নেওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ পরিষেবার দিকে বড় পদক্ষেপ
বিহার সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারই অংশ এই ডোরস্টেপ রেজিস্ট্রেশন পরিষেবা। সরকারের আশা, ভবিষ্যতে গোটা রাজ্যে এই প্রকল্প চালু হলে প্রবীণ নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য মানুষের জন্যও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং ঝামেলামুক্ত হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি কমানো, কাগজপত্রের ঝামেলা হ্রাস এবং সরকারি পরিষেবাকে নাগরিকবান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
















