আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের উন্নাও রেল স্টেশনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং হলে আচমকাই এক হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ট্রাভেলাররা যখন ক্লান্ত, ঠিক তখনই সেখানে এক তরুণী অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গিতে নাচতে শুরু করেন। কিন্তু সেই নাচের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক মারাত্মক চুরির ছক, যা শেষ পর্যন্ত ধরে ফেলেন সতর্ক যাত্রীরা। হাতেনাতে পাকড়াও করার পর ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহিলার নাম সঞ্জনা, তিনি কানপুরের বাসিন্দা। ওয়েটিং হলে বসে থাকা যাত্রীদের মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত, নাচ-সদৃশ অঙ্গভঙ্গিতে শরীর দোলাতে শুরু করেন। তাঁর এই খামখেয়ালি আচরণে যখন হলের সমস্ত মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন, ঠিক তখনই তাঁর হাত থেকে হ্যান্ডব্যাগটি নিচে পড়ে যায়। আর ব্যাগটি মাটি থেকে তুলতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে। ব্যাগ থেকে দুটো বেশ দামি স্মার্টওয়াচ ছিটকে মেঝেতে পড়ে যায়, যা দেখে উপস্থিত সকলের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

যাত্রীরা খেয়াল করেন যে, সঞ্জনার নিজের হাতে কোনও ঘড়ি নেই, অথচ তাঁর সাধারণ পোশাকের সাথে একেবারেই খাপ খায় না এমন দুটি অত্যন্ত দামি স্মার্টওয়াচ তিনি ব্যাগে নিয়ে ঘুরছেন। ব্যাগ তুলতে গিয়েই ধরা পড়ার ভয়ে ঘাম দিয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকেন মহিলা। এই অসঙ্গতি দেখে যাত্রীরা যখন তাঁর ওপর কড়া নজর রাখছিলেন, ঠিক তখনই তাঁকে চোরের মতো চুপিচুপি অন্য এক যাত্রীর পার্স হাতানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। ব্যাস, সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে চারপাশের মানুষকে সতর্ক করে দেন তারা।

সৌভাগ্যবশত, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ রুখতে সেই সময় গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP) এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর একটি যৌথ দল স্টেশনে রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল। যাত্রীদের চিৎকার এবং একটি গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অফিসাররা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সঞ্জনাকে আটকে ফেলেন। তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করে একটি বাদামী রঙের হ্যান্ডব্যাগ, একটি মোবাইল ফোন এবং ওই দুটি চুরি যাওয়া স্মার্টওয়াচ উদ্ধার করা হয়।

এরপরই সঞ্জনাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ এবং পরবর্তীতে তাঁকে উন্নাও জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, সঞ্জনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই ধরণের অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি বা নাচের নাটক করছিলেন যাতে মানুষের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে সহজেই চুরি করা যায়। তবে যাত্রীদের সততা এবং রেল পুলিশের দ্রুত অ্যাকশনের কারণে এবার আর পার পেলেন না এই লেডি চোর।