আজকাল ওয়েবডেস্ক: অধ্যাপকের সঙ্গে সম্পর্কের 'রটনা'। এর জেরে দিনের পর দিন সহপাঠীদের লাগাতার বিদ্রুপ। সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ নিজেকে শেষ করলেন কর্নাটকের এক মেডিক্যাল ছাত্রী। মৃত ছাত্রীর নাম নিখিতা এম ইউ (২২)। তিনি মাল্লাডিহাল্লির রাঘবেন্দ্র আয়ুর্বেদিক কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, কলেজের অধ্যাপক ডঃ রাজুর সঙ্গে নিখিতার সুসম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, বিষয়টিকে বিকৃত করেন ছাত্রীর বেশ কয়েকজন সহপাঠী। তাঁরা রীতিমত সব জায়গায় রটিয়ে দেন যে, তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে দিনের পর দিন নিখিতাকে অপমান ও মানসিক হেনস্তা করা হত বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা উমাশঙ্কর জি এন।

পেশায় প্রধান শিক্ষক উমাশঙ্করবাবু জানিয়েছেন, অপমান ও বিদ্রুপের জেরে নিখিতা ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, তাঁকে এই সব কথায় কান না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে নিজের বাড়িতেই চরম পথ বেছে নেন তিনি।

ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোটে নিখিতা নিজের মানসিক কষ্টের কথা লিখে গিয়েছেন। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী সহপাঠীদের নাম উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর বাবা। বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, নিমেষেই গোটা পরিবার শেষ। বেঙ্গালুরুতে এক তরুণ দম্পতির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার নিজেদের ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয় বছর বত্রিশের ভানু চন্দর রেড্ডি কুন্টা ও তাঁর স্ত্রী বিবি শাজিয়া সিরাজের (৩১) দেহ। তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ওই দম্পতি কর্মসূত্রে এ শহরেই থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরে দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় পেশায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শাজিয়ার। ঘরের ভিতর থেকে ভানুর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার করে লোক জড়ো করেন। শেষে নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে দেখেন, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে ভানুর নিথর দেহ।

ট্র্যাজেডি সেখানেই শেষ হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বহুতলের ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দেন শাজিয়া। চোখের পলকে সব শেষ।

আবাসনের চত্বরেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্বামীর মৃত্যু সইতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছেন স্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কোনও দাম্পত্য কলহ, মানসিক অবসাদ নাকি শারীরিক অসুস্থতা কাজ করছিল- তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দু’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।