আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকের টুমাকুরু জেলার পাভাগাদা শহরে সমাজকল্যাণ দপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক, মল্লিকার্জুন, শুক্রবার সন্ধ্যায়, (২০ মার্চ) নিজের অফিসে আত্মহত্যা করেন। এক সরকারি কর্মকর্তার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি একটি সেলফি ভিডিও রেকর্ড করে তাঁর সহকর্মীদের পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নিজের পরিণতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কৃষ্ণাপ্পা-র (যুগ্ম পরিচালক) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ভিডিও-তে তিনি বলেছেন , “ঈশ্বর তাঁকে শাস্তি দেবেন।” এতেই স্পষ্ট যে, কাজের জায়গায় নানা সমস্যায় মল্লিকার্জুনের উপর মানসিক চাপ ছিল।
অবসরের মাত্র ১০ দিন আগে মল্লিকার্জুন চরম সিদ্ধান্ত নেন। ভিডিওতে তিনি তাঁর মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন যে, পরিবারের নিকটজনেরা তাঁকে খুব ভাল আগলে রেখেছিলেন, তিনিও তাঁদের সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মানসিক চাপের জেরে তা আর সম্ভব হল না। মল্লিকার্জুন আরও বলেন যে, তাঁর পরিণতির জেরে যেন পরিবার কোনও প্রতিশোধ না নেয়। তাঁর পরিণতির জন্য দায়ীকে "ঈশ্বর ও আইন"ই শাস্তি দেবে।
মল্লিকার্জুনের পরিবারের অভিযোগ এবং সেলফি ভিডিওর ভিত্তিতে পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) কৃষ্ণাপ্পার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা -এর ১০৮ নম্বর ধারা (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে চাপ, হয়রানি বা মতবিরোধের জেরেই মল্লিকার্জুন এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই তদন্তএগোচ্ছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই ঘটনায় সরকারি মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালেও কর্নাটকের 'মহর্ষি বাল্মীকি তফশিলি উপজাতি উন্নয়ন নিগম'-এর কর্মকর্তা পি. চন্দ্রশেখরন দুর্নীতির চাপে পড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি ফের একবার সরকারি দপ্তরে মানসিক চাপ ও হয়রানির বিষয়টি সামনে নিয়ে এল, ফলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
