আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আলি জিন্নাকে। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ ছড়াল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।
তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হয় এবিভিপির তরফে। সংগঠনটির দাবি, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় সংশোধিত স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞান সিলেবাস থেকে এই অধ্যায় অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে, জম্মু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিন্না-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অংশ এবং ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী সিলেবাসে রাখা হয়েছে।
এবিভিপির জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পাদক সান্নক শ্রীবৎসের নেতৃত্বে বহু কর্মী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। তাঁদের দাবি, ‘মডার্ন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল থট’ মডিউলের অধীনে ‘মাইনরিটিজ অ্যান্ড দ্য নেশন’ পেপার থেকে জিন্না সংক্রান্ত অধ্যায় সরাতে হবে।
এদিন বিক্ষোভকারীরা জিন্নার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষোভ দেখান। সতর্ক করা হয়, জিন্না সংক্রান্ত অধ্যায় সিলেবাস প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এক এবিভিপি নেতা বলেন, ‘২০২৬-২০২৮ সালের সিলেবাসে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের অংশ হিসেবে স্যার সাইয়দ আহমেদ খান ও জিন্নাহর মতো ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এঁরাই দেশের বিভাজন ও টু-নেশন থিয়োরির সঙ্গে যুক্ত—তাই তাঁদের সম্পর্কে পড়ানো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’
শ্রীবৎস বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা জাতীয় আবেগকে উপেক্ষা করতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই অধ্যায় বাতিল না করে, তবে এবিভিপি জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে।’
অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান বলজিৎ সিং মান সিলেবাসের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, জিন্না-সহ অন্যান্য ব্যাক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রমের জন্যই, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘এই মডিউলে আমরা আধুনিক ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বরা যাঁদের মধ্যে রয়েছেন জিন্না, স্যার সাইয়দ আহমেদ খান, মহম্মদ ইকবাল, বিনায়ক দামোদর সাভারকর, এম এস গোলওয়ালকর, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার প্যাটেল তাঁদের সম্পর্কে পড়াই।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনও মতাদর্শ প্রচার করে না, বরং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ছাত্রদের সমালোচনামূলক মূল্যায়নের সুযোগ করে দেয়। মান যোগ করেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য ছাত্রদের সামনে বিভিন্ন মত তুলে ধরা, যাতে তারা ভাল-মন্দ বিচার করতে পারে। এটা কোনও বিশেষ মতাদর্শকে সমর্থন করা নয়।’
তিনি আরও বলেন, জিন্না, ইকবাল ও স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁদের প্রাথমিক জীবনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, তাই তাঁদের চিন্তার বিবর্তন বোঝা ইতিহাসের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের বিষয় পড়ানো হয় এবং এগুলি ইউজিসির সুপারিশ করা পাঠ্যক্রমের অংশ।
