আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি উত্তাল পারস্য উপসাগর। আবারও একাধিক বাধা পেরিয়ে দেশে ফিরছে ভারতীয় রান্নার গ্যাসের জাহাজ। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রিন আশা’ এবং ‘গ্রিন সানভি’ নামের দুটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে দেশের পথে রওনা দিয়েছে। তবে ‘জগ বিক্রম’ নামে তৃতীয় একটি জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে বর্তমানে ওই জলপথ দিয়ে বাণিজ্য তরী চলাচল এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তেহরানের আশ্বাস, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চললে বন্ধু দেশগুলির জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
সেই পথেই এখনও পর্যন্ত মোট আটটি ভারতীয় জাহাজ বিপদ কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। এর আগে ‘শিবালিক’, ‘নন্দাদেবী’ ও ‘পাইন গ্যাস’-এর মতো ছ’টি জাহাজ নিরাপদে ভারতের বন্দরে ফিরেছে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশ এখন সবথেকে বড় গ্যাস সঙ্কটের মোকাবিলা করছে। সাধারণ মানুষের হেঁশেলে যাতে টান না পড়ে, তার জন্য কলকারখানায় গ্যাস সরবরাহে রাশ টেনেছে কেন্দ্র।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের বিপুল চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর সিংহভাগই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। এই পরিস্থিতিতে সেখানকার বন্দরে আটকে থাকা খালি জাহাজগুলিতে দ্রুত গ্যাস ভর্তি করে দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে দিল্লি।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। আমেরিকার সঙ্গে চলা এহেন প্রবল সংঘাতের মধ্যেই সোমবার তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্রেফ 'সাময়িক' যুদ্ধবিরতির জন্য তারা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেবে না। সাফ কথা, আমেরিকার 'সদিচ্ছার' অভাব রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক সরাসরি ওয়াশিংটনকে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা 'স্থায়ী' শান্তিতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। তেহরান এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট উত্তেজনার পারদ আরও চরমে তুলে দিয়েছে। অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানকে 'নরক যন্ত্রণা' ভোগ করতে হবে।
সোমবারকে ‘ব্রীজ ডে’ এবং মঙ্গলবারকে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর পোস্টের শেষে লেখা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দবন্ধটি নিয়ে ইতিমদ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সীমানায় ভেঙে পড়েছে একটি মার্কিন বিমান। তার দুই পাইলটকে উদ্ধার করার পর ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেপথ্যে দূতের কাজ করছে মিশর, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। তারা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে দুই দেশকেই।
লক্ষ্য হল, সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। আমেরিকা বা ইরান কোনও পক্ষই এখনও এই প্রস্তাবে শিলমোহর দেয়নি। ইরান পাল্টা দাবি তুলছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন টালমাটাল।















