আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও উত্তেজনা। এই আবহে ইরান সীমান্ত ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় তথ্য দিল ভারত সরকার। তেহরান কি ভারতীয় জাহাজের ওপর বিশেষ কোনও কর চাপিয়েছে? বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ভারতের কোনও আলোচনা হয়নি।
ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ কার্যত বন্ধ। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা ধরা পড়েছে ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর রিপোর্টে। দেখা গিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এই পথে জাহাজ চলাচল ৯৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। এখন যে সামান্য কিছু জাহাজ চলাচল করছে, তার বেশিরভাগই ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
অভিযোগ উঠেছে, ইরান এখন হরমুজ প্রণালীতে অনেকটা ‘টোল প্লাজা’র মতো ব্যবস্থা চালু করেছে। জাহাজগুলিকে মাঝদরিয়ার পথ ছেড়ে এখন ইরানের উপকূল ঘেঁষে লারাক দ্বীপ হয়ে যেতে হচ্ছে। আর যাওয়ার আগে ইরানের সেনাবাহিনীর লোকজনকে জাহাজের মালপত্র ও কর্মীদের যাবতীয় তথ্য দিতে হচ্ছে। যদিও নগদ টাকা লেনদেনের খুব একটা প্রমাণ মেলেনি।
জানা গিয়েছে, গত ১৫ দিনে যে ৬৩টি জাহাজ ওই পথ দিয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে মাত্র দু’টি জাহাজ ফি দিয়েছে। বাকিরা নিজেদের দেশের কূটনৈতিক প্রভাবে যাতায়াতের অনুমতি পেয়েছে।
সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই যায়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালানোর পর থেকেই গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত সরকার জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১২০০ জন ভারতীয়কে ইরান থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৪৫ জন ছাত্র। উদ্ধার হওয়া এই ভারতীয়রা মূলত আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সীমান্ত দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছেন।
অন্যদিকে ভারতের উদ্বেগ কমাতে আসরে নেমেছে তেহরানও। দিল্লিতে ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, “ভারতীয় বন্ধুদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনারা নিরাপদ হাতেই আছেন।”















