আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র সাত দিনের মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণে নাটকীয় বদল। এক গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার জেরে আপের সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ দলত্যাগ করায় বড় ধাক্কা খেল কেজরিওয়ালের দল। অন্যদিকে এই ঘটনায় শক্তি বাড়ল বিজেপির, যা সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে সংখ্যার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে।
সূত্রের খবর, ঘটনাটি হঠাৎ নয়—বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অপারেশনের ফল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আপের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছিল। দলের কিছু সাংসদ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সেই সুযোগেই প্রতিপক্ষ শিবির সক্রিয় হয়ে ওঠে। একাধিক স্তরে যোগাযোগ, বারবার গোপন বৈঠক এবং কৌশলী প্রস্তাব—সব মিলিয়ে তৈরি হয় দলত্যাগের মঞ্চ।
এই গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক মহলে ‘সেভেন মিসড কলস’ নামে ডাকা হচ্ছে। কারণ, দাবি করা হচ্ছে—দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। সাংসদদের একাংশ নাকি নেতৃত্বের কাছ থেকে স্পষ্ট দিশা বা আশ্বাস না পেয়ে ক্রমে দূরে সরে যান। সেই ‘মিসড কল’-এর ফাঁকেই অন্য শিবির তাদের কাছে পৌঁছে যায়।
ঘটনার পর আপ নেতৃত্ব কার্যত অপ্রস্তুত। দলের ভিতরে এই মাত্রার ভাঙন হবে, তা অনেকেই আঁচ করতে পারেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলত্যাগ শুধু সংখ্যার ক্ষতি নয়, বরং দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বড় ধাক্কা খেল।
অন্যদিকে বিজেপির জন্য এটি একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যসভায় যেখানে প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সাতজন সাংসদের সমর্থন পাওয়া মানে আইন পাশ করানোর ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক অবস্থান। ফলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকার আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরেও পড়তে পারে। বিরোধী জোট রাজনীতিতে আপের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে অন্য বিরোধী দলগুলিও এখন নিজেদের সাংসদদের ধরে রাখার ব্যাপারে আরও সতর্ক হচ্ছে।
&t=21s
সব মিলিয়ে, সাত দিনে সাত সাংসদের দলত্যাগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক খবর নয়—এটি দেখিয়ে দিল, বর্তমান রাজনীতিতে কৌশল, সময়জ্ঞান এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যের গুরুত্ব কতটা। আর সেই পরীক্ষায় আপ আপাতত পিছিয়ে পড়েছে, আর বিজেপি এগিয়ে গেছে এক ধাপ।















