আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ে টিকল না পাঁচ মাস। স্বামীর হাতেই স্ত্রীর ভয়ঙ্কর পরিণতি। স্ত্রীকে খুনের পর সেই ছবিই পাঠালেন প্রেমিকাকে। কেচ্ছা ফাঁস হল অবশেষে। খুনের ন'মাস পর পুলিশের জালে ঘাতক স্বামী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর অক্টোবরে ২৭ বছরের রজিতা সাব্বিনেনীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছিলেন অবিনাশ নার্নে। বেলভিউ পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ন'মাস পর অবিনাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দম্পতি আমেরিকায় থাকতেন। স্ত্রীকে খুনের ন'মাস পর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিনাশ পেশায় একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গতবছর ২৭ অক্টোবর অবিনাশ পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী বাথরুমে দীর্ঘক্ষণ আটকে। কোনও মতেই সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। দরজা ভেঙেও উদ্ধার করা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুমের দরজা ভেঙে রজিতার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন মৃত বলেও ঘোষণা করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ জানিয়েছিলেন, তিনি জরুরি কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। ৪০ মিনিট পর বাড়ি ফিরেই দেখেন রজিতা বাথরুমে আটকে। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, অবিনাশ যখন বাইরে ছিলেন, সেই সময় বাড়িতে কেউ প্রবেশ করেননি। পরদিন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে রজিতাকে খুন করা হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, রজিতাকে ২০২৫ সালে ৫ জুন বিয়ে করেছিলেন অবিনাশ। দেখাশোনা করেই বিয়ের ঠিক হয়েছিল। কিন্তু তার আগে থেকেই অন্য এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল অবিনাশের। এমনকী তাঁর বিয়েতেও সেই প্রেমিকা এসেছিলেন। বিয়ের পরেও সেই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক টিকে ছিল অবিনাশের। যোগাযোগ থামেনি।
রজিতাকে খুনের পর, সেই মৃতদেহের ছবিও প্রেমিকাকে পাঠিয়েছিলেন অবিনাশ। পুলিশকে অভিযোগ জানানোর সময়েও চারবার ভারতের সেই প্রেমিকার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। রজিতা একাধিকবার অবিনাশকে মেসেজে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর জন্য যে পানীয় বানিয়ে দেন, সবগুলোই বড্ড কড়া। এমনকী মৃত্যুর দিনেও যে স্মুদিও রজিতাকে বানিয়ে দিয়েছিলেন, সেটি কাফ সিরাপ, ওষুধের মতো খেতে ছিল।
অবশেষে পুলিশের জালে অবিনাশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।















