আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টে বিশেষ ‘সিঁদুর’ ফর্মেশন প্রদর্শন করবে ভারতীয় বায়ুসেনা। এই বিশেষ সাতটি বিমানের ফর্মেশন ভারতের বায়ুসেনার আধুনিক যুদ্ধক্ষমতা ও কৌশলগত শক্তিকে তুলে ধরবে।

‘সিঁদুর’ ফর্মেশনে থাকবে ভারতের সামনের সারির যুদ্ধবিমান। জানা গিয়েছে, দুটি রাফাল, দুটি সুখোই-৩০ এমকেআই, দুটি মিগ-২৯ এবং একটি জাগুয়ার থাকবে।

এই ফ্লাইপাস্টে ‘সিঁদুর’ ফর্মেশনের পাশাপাশি দেখা যাবে ‘প্রহার’ ও ‘গরুড়’ ফর্মেশনও। যুদ্ধ বিন্যাসে উড়তে থাকা ‘প্রহার’ ফর্মেশনে থাকবে তিনটি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার।

এর মধ্যে দুটি ভারতীয় সেনার এবং একটি ভারতীয় বায়ুসেনার। এই ফর্মেশনের নেতৃত্ব দেবে একটি হেলিকপ্টার। যেখানে থাকবে অপারেশন সিঁদুরের পতাকা।

এর ঠিক পরেই একই ধরনের যুদ্ধ বিন্যাসে উড়বে ‘গরুড়’ ফর্মেশন। জানা গিয়েছে, চলতি বছর মোট ২৬টি বিমান প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে। এর মধ্যে থাকবে ১৬টি যুদ্ধবিমান, চারটি পরিবহণ বিমান এবং ন’টি হেলিকপ্টার।

উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে নির্ভুল হামলা চালানো হয়।

ভারতীয় সেনার ভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’। পরবর্তী তিন দিনে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের মোট ন’টি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

তবে এই অভিযানে হামলা যে শুধু পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ ছিল তেমনটা একেবারেই নয়। বরং পাকিস্তানের গভীর এলাকাতেও, এমনকী সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে ভারতীয় সেনা।

বাহাওয়ালপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকার জঙ্গিঘাঁটিগুলিও এই অভিযানের আওতায় নিয়ে এসে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতের এই সফল অভিযানের পর পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানান।

১০ মে সন্ধ্যা থেকে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই অভিযানে জঙ্গি পরিকাঠামোর সর্বাধিক ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে, একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখা হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছে। জয়পুরে দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ডে এক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর এখনও কার্যকর রয়েছে। শত্রুপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর আমরা কড়া নজর রাখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অভিযানের মাধ্যমে মাত্র ৮৮ ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের নির্ভুলতা, পেশাদারিত্ব ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য করেছে। এটি দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় সেনার শক্তির স্পষ্ট প্রমাণ।’