আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনা আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই পেশ করতে চলেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আসন্ন ভারত সফরের আগেই এই প্রস্তাব নিয়ে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রের ইঙ্গিত। এই পদক্ষেপকে ভারত–ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার দিকেই একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে আইএএফের হাতে থাকা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ফ্রন্টে মোতায়েন হয়েছে এবং বায়ুসেনার অপারেশনাল ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে, আইএএফ দীর্ঘদিন ধরেই আরও আধুনিক মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল কেনার প্রস্তাবটি সামনে এসেছে।
প্রস্তাবিত এই ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, ভারতে উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প, বিশেষ করে এয়ারোস্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর, বড়সড় সুবিধা পেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডের ক্ষেত্রেও স্বনির্ভরতা বাড়বে।
ডিএসি-র অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে যাবে বিস্তারিত মূল্য আলোচনা, অফসেট শর্ত এবং ডেলিভারি সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একাংশ মনে করছে, ম্যাক্রোঁর সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন থাকলে এই চুক্তির গতি আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে আইএএফের স্কোয়াড্রন শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং পুরনো মিগ সিরিজের বিমান ধাপে ধাপে অবসর নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে রাফালের উন্নত সেন্সর, অস্ত্র বহন ক্ষমতা এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সুবিধা ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে রাখবে।
সব মিলিয়ে, ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল কেনার প্রস্তাব শুধু একটি অস্ত্র ক্রয় নয়, বরং ভারত–ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। ডিএসি-র সবুজ সংকেত এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই এখন এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
