আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেদার মদ্যপান করে চুরি করতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। মত্ত অবস্থায় চুরি করে সোফায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন চোর। সেই সোফাতেই শেষমেশ নাক ডেকে ঘুম। সকাল হতেই এলাকায় তুমুল শোরগোল। অবশেষে পুলিশের জালে অভিযুক্ত যুবক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের গৌরীবিদানুর এলাকায়। শহরে আরটিও অফিসের কাছে এই বাড়িতে চুরির ঘটনায় রীতিমতো হাসির রোল এলাকায়। ওই বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে মত্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন চোর। সকাল হতেই হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। এলাকাটিও শান্ত। অন্ধকারে চুপিচুপি ওই বাড়িতে ঢোকেন চোর। ৪০ বছর বয়সি ধৃত যুবকের নাম, ধীবারাজু। বাড়ির মালিক প্রেমানাথের তিনি পূর্ব পরিচিত। পরিকল্পনামাফিক ওই বাড়িতে চুরি করতে যান তিনি।
ধীবারাজু ওই বাড়িতে আগে কাজ করেছেন। ফলে বাড়ির ঘর, বারান্দা, সিঁড়ি, বাইরে যাতায়াতের দরজা সবটাই তাঁর চেনা। তিনি আগে থেকেই জানতেন, প্রেমানাথ কাজের জন্য হায়দরাবাদে গেছেন। বাড়িটি ফাঁকা। সেই সুযোগে এক বন্ধুর সঙ্গে ওই বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করেন তিনি।
মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় পৌঁছন তাঁরা। কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট। বাড়ির থেকে দূরেই মোটরসাইকেল রাখা ছিল। দু'জনেই ছাদ দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর আলমারি থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা এবং সোনার গয়না চুরি করেন। এরপরই দু'জনে আলাদা হয়ে যান।
চুরি করা নগদ টাকা ও সোনার গয়নার বেশিরভাগটাই নিয়ে ধীবারাজুর বন্ধু তড়িঘড়ি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু বাড়িতেই থেকে যান ধীবারাজু। অত্যধিক মদ্যপানের কারণে বাইরে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মত্ত অবস্থায় সোফায় বসে বিশ্রাম নিতে শুরু করেন। সেই সময়েই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
মধ্যরাতেই ওই বাড়িতে আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। জানলার ফাঁক দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, ভিতরে কী হচ্ছে। চুরির ঘটনা ঘটছে বুঝতে পেরেই ছাদের দরজা বন্ধ করে দেন প্রতিবেশীরা। অবশেষে সকাল হতেই থানায় খবর দেন তাঁরা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধীবারাজুর পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। বাকি ৪০ হাজার টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে রাতেই তাঁর বন্ধু পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বাড়ি ফিরে এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেছেন বাড়ির মালিক।
