আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত–যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (CETA) কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা থেকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে গয়নার রপ্তানি চালান পাঠানো হল। বুধবার কলকাতা এয়ার কার্গো কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চালানের সূচনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে মোট ১ কোটি মার্কিন ডলার (US$10 million) মূল্যের যে প্রথম চালান যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার কলকাতার ছয়টি শীর্ষ রপ্তানিকারক সংস্থা।
CETA কার্যকর হওয়ার ফলে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতীয় গয়না এখন শূন্য আমদানি শুল্কে (Zero Duty) প্রবেশ করতে পারবে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হত, তা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বড়, প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের (US$4 billion) যুক্তরাজ্যের গয়নার বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পাশাপাশি আগামী তিন বছরে রপ্তানি তিন গুণের বেশি বাড়ার আশা।
জিজেইপিসি-র চেয়ারম্যান কিরিট ভাংসালি জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ভারতের রত্ন ও গয়না রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। CETA-র ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাঁর মতে, এর ফলে রপ্তানিকারক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), কারিগর, ডিজাইনার এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে কলকাতার জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে আগামী দিনে।
জিজেইপিসি-র পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান পঙ্কজ পারেখ বলেন, কলকাতার দীর্ঘদিনের গয়না নির্মাণের ঐতিহ্য ও দক্ষ কারিগরদের জন্য এই চুক্তি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ক্রেতা পাওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের গয়না শিল্পে বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। বিশেষ করে MSME ও ঐতিহ্যবাহী কারিগররা এর বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন।
শিল্প মহলের মতে, CETA কার্যকর হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের গয়না শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। কলকাতা থেকে প্রথম রপ্তানি চালান পাঠানো সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার (পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত) ড. অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং বলেন, “শুধু গয়না নয়। যুক্তরাজ্যে মেরিন প্রোডাক্ট, চা, লেদার এবং বাংলার টেক্সটাইলের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে CETA কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের পাশাপাশি রাজ্যের জন্যও লাভজনক হবে।”
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়, কাস্টমস বোর্ডের সদস্য যোগেন্দ্র গর্গ, ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক চন্দ্রকান্ত মিশ্র, ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার (পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত) ড. অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং, জিজেইপিসি-র (GJEPC) পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান পঙ্কজ পারেখ এবং SHEFEXIL-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. দেবযানী রায়।
কলকাতার Jais Jewellery Pvt. Ltd., Modern Impex, L. Gopal & Sons (Jewellers), AB Jewels Pvt. Ltd., JS Jewels Private Limited এবং Hasmukh Parekh Jewellers এই ঐতিহাসিক রপ্তানি চালানের অংশ। চালানে রয়েছে সোনা, হিরে, রুপো ও প্ল্যাটিনামের গয়না।
















