আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার সুপ্রিম কোর্ট পাটনা হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল যে, কোনও মহিলার সালোয়ার খোলার চেষ্টা করা এবং আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা 'ধর্ষণের চেষ্টা' হিসেবে গণ্য হবে না।
বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে শুনানি করে এবং ইঙ্গিত দেয় যে, পাটনা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে তারা একটি বিস্তারিত নির্দেশ জারি করবে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত রায়ের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে মামলাটি শুরু করেছিল, তার শুনানির সময় এই বিষয়টি সামনে আসে। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত আগেই 'ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি'-কে নির্দেশ দিয়েছিল- যেন তারা যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিচারিক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দেশিকা তৈরি করে।
শুনানি চলাকালীন প্রবীণ আইনজীবী শোভা গুপ্তা পাটনা হাইকোর্টের ওই নির্দেশটি বেঞ্চের নজরে আনেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়টি খারিজ করে দেওয়া সত্ত্বেও, পাটনা হাইকোর্ট প্রায় একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে একইরকমের পর্যবেক্ষণ করেছে। এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে গুপ্তা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরেও এ ধরনের নির্দেশ আসছে।
প্রবীণ আইনজীবী এইচএস ফুলকাও এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
উদ্বেগের বিষয়ে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের রায় প্রায়শই অপর্যাপ্ত আইনি গবেষণা এবং আইনের বিষয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনার অভাব থেকে উদ্ভূত হয়। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট তাদের পরবর্তী নির্দেশে পাটনা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে।
পাটনা হাইকোর্টের এই মামলাটি বাঁকা জেলার অমরপুর থানা এলাকার একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা হয়েছিল। সরকারি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিতা তরুণী তাঁর বাবার সঙ্গে হিমাংশু নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে গিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীর বাবাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন এবং তরুণীকে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। ঘরের ভেতরে তিনি ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তরুণীর সালোয়ার খোলার চেষ্টা করেন এবং নির্যাতিতার স্তন চেপে ধরেন। সরকারি পক্ষের আরও বক্তব্য, নির্যাতিতা চিৎকার করলে তাঁর বাবা জোর করে দরজা খুলে ফেলেন, ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এই মামলায় পাটনা হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনও মহিলার সালোয়ার খুলে ফেলা বা তাঁর স্তনে চাপ দিলেই তা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না সেখানে ধর্ষণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা শারীরিক সম্পর্কের কোনও প্রমাণ থাকে।
মনে করা হচ্ছে, এরপর সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন আদেশে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’-র আইনি ব্যাখ্যা স্পষ্ট হবে। এবং এর মাধ্যমে সারা দেশে যৌন অপরাধের মামলা পরিচালনাকারী আদালতগুলোর জন্য আরও ব্যাপক নির্দেশও পাওয়া যেতে পারে।
















