আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে জানাল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) বিষয়েও অনুরোধ এলে তা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে আমাদের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন নেই। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত যেকোনও বিষয়ই একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং সে অনুযায়ীই তা মোকাবিলা করা হবে।”

প্রায় দুই বছর নির্বাসনে থাকার পর আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা (৭৮) দলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন খবর প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের এই প্রতিক্রিয়া এল।

হাসিনার ফেরার খবরকে স্বাগত জানাল ঢাকা
হাসিনার ফেরার পরিকল্পনার খবরকে মঙ্গলবার স্বাগত জানিয়েছিল বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। তারা বলেছে, একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তাঁর বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাঁর (শেখ হাসিনা) এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই, কারণ আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।” জাহিদ উর রহমান বলেন, “দেশের মানুষ চায় তাঁর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক এবং মানুষ যেহেতু তা দেখতে চায়, তাই সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।” ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আরও বলেন, “তিনি বিশ্বের সেরা আইনজীবীদের নিয়ে আসুন।”

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সরকার পতনের পর ঢাকা থেকে পালিয়ে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন।

গত নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০২৪ সালের অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ভারতের কাছে তাঁকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে শেখ হাসিনা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অভিযোগ ও সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
হাসিনার সরকারের পতন এবং বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি, অন্যদিকে, এপ্রিল মাসে নতুন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন শীর্ষ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসিনা সম্ভবত এই বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরবেন।