আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ীর সামুদ্রিক স্তম্ভে বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি হতে চলেছে। দেশের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস আরিধামান এপ্রিলে–মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবায় যোগ দেওয়ার পথে। এটি যুক্ত হলে ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও সুসংহত হবে এবং আঘাত হানার ক্ষমতা আরও জোরালো হয়ে উঠবে।
এই সাবমেরিনটি লারসেন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।নির্মাণকাজ করা হয়েছে বিশাখাপত্তনমের একটি সেন্টারে। গত কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা চলার পর কমিশনিংয়ের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিষেবায় ঢুকলে এটি কৌশলগত বাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।
বর্তমানে ভারতের প্রথম আইএনএস আরিহান্ট এবং উন্নত সংস্করণ আইএনএস আরিহাস্ট ২ জলপথের দায়িত্বে রয়েছে। অরিধামান যোগ দিলে এই বহর আরও শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে একই শ্রেণির চতুর্থ সাবমেরিন ভারতের পরিষেবায় আসবে।
এসএসবিএন–এর মূল কথাই হল গোপনীয়তা ও চমক। পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের কারণে এরা প্রায় সীমাহীন সময় জলের তলায় থাকতে পারে, ফলে ভেসে উঠে অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গভীর সমুদ্রে ধীরগতিতে ও নীরবে টহল দিয়ে এরা শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে চলে। তাদের অবস্থান সাধারণত অজানা থাকে—যতক্ষণ না প্রয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুদ্ধের গতিবিধি সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক পর্যায়ে সরে যেতে পারে।
অরিধামান–এ ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে ১৫ এবং ৩,০০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার কে ৪ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল বহনের ক্ষমতা থাকবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রসম্ভার ভারতের রণনীতিতে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে, কারণ স্থলবিভাগ বা আকাশ বিভাগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রের গভীর থেকে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা এরফলে অটুট থাকবে।
বিশ্বে খুব অল্প কয়েকটি দেশই এই জটিল পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ ও পরিচালনা করতে পারে। ভারত এখন সেই সীমিত গোষ্ঠীর সদস্য—যাদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও চীন। অরিধামানের কমিশনিং শুধু একটি নৌযান যুক্ত হওয়া নয়; এটি ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি–সরকারি অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রতীক।
