আজকাল ওয়েবডেস্ক: নবমবার বাজেট পেশের সময়ে 'জাতীর জনক' মহাত্মা গান্ধীর নামে বস্ত্র প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। প্রস্তাবিত বস্ত্র প্রকল্পটির নাম, 'মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প'। খাদি শিল্পের উন্নয়নের জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নির্মলা সীতারমন।
সম্প্রতি মোদি সরকার ১০০ দিন কাজ প্রকল্পের পোশাকি 'MGNREGA' নাম বদলেছে। নতপুন নাম করা হয়েছে- বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল, সংক্ষেপে ভিবি জি রাম জি বিল। সরকারের দাবি, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের কাঠামো বদলানো জরুরি। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল আসলে গরিব মানুষের কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, এই বিল মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের উপর সরাসরি আঘাত। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, MGNREGA ছিল মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজ ভাবনার বাস্তব রূপ। এটা ছিল গরিব মানুষের কাজের অধিকার এবং আত্মসম্মানের প্রতীক। তাই কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মহাত্মাগান্ধীর নাম মুছে ফেলতে চাইছে এবং একই সঙ্গে গরিব মানুষের অধিকার দুর্বল করছে।
রাহুলের মূল আপত্তি হল, তুন বিলে ক্ষমতা পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। বাজেট, কাজের পরিমাণ ও নিয়ম সব কিছুই কেন্দ্র ঠিক করবে। রাজ্যগুলিকে খরচের বড় অংশ বহন করতে বাধ্য করা হবে। বাজেট শেষ হয়ে গেলে বা চাষের মরশুমে দু’মাস কাজ বন্ধ থাকলে গ্রামীণ মানুষ কাজ পাবেন না।
বিরোধীদের এই অভিযোগের পাল্টা এবার 'মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প' ঘোষমা করলেন নির্মলা সীতারমন।
বাজেট পেশের শুরুতেই তিন কর্তব্যের কথা বললেন নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, "এটিই কর্তব্য ভবনে তৈরি করা প্রথম বাজেট। আমাদের তিনটি কর্তব্যের কথা মাথায় রাখতে হবে। এই তিন কর্তব্য হল- উন্নয়ন, মানুষের আশা পূরণ এবং সবকা সাথ সবকা বিকাশ।"
ভারতের বায়ো ফার্মা সেক্টরে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্জানাইজেশনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাজেটে ছ'টি ক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এই সেক্টরগুলি হল-
- ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্ষেত্রগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা
- MSME ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করা
- পরিকাঠামো তৈরিতে জোর
- দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা
- স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করা
- শহরগুলির অর্থনীতিকে উন্নত করা।
