আজকাল ওয়েবডেস্ক: তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে দেশের বড় অংশ। এর মধ্যেই বর্ষা কবে কেরলে ঢুকবে তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইএমডি আগে পূর্বাভাস দিয়েছিল যে চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ২৬ মে কেরলে পৌঁছে যাবে। যা স্বাভাবিক সময়সূচির তুলনায় প্রায় পাঁচ দিন আগের সম্ভাবনা ছিল। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটে বলে ধরা হয়।
কিন্তু বাস্তবে সেই পূর্বাভাস মেলেনি। আবহাওয়ার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, বর্ষা এখন সম্ভবত ২ থেকে ৪ জুনের মধ্যে কেরলে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের থেকেও এক থেকে তিন দিন দেরি হতে পারে।
প্রতি বছর জুনের শুরুতে গোটা দেশের নজর থাকে কেরলের দিকে। কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রথম প্রবেশ ঘটে এই রাজ্য দিয়েই। এরপর ধাপে ধাপে বর্ষা দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী চার মাসে ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ে আসে।
এই বছর আগাম পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। বিশেষ করে উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের প্রবল তাপপ্রবাহের মধ্যে মানুষ দ্রুত বর্ষার অপেক্ষায় ছিলেন। আবহাওয়ার কিছু প্রাথমিক অনুকূল পরিস্থিতিও সেই পূর্বাভাসকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা ট্রেন নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুর গতি, বায়ুচাপ এবং মেঘের অবস্থানের মতো একাধিক জটিল প্রাকৃতিক উপাদানের উপর বর্ষার গতিপথ নির্ভর করে।
নিয়ম অনুযায়ী কেরলে বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে ঘোষণা করতে গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। অন্তত ১৪টি নির্দিষ্ট আবহাওয়া কেন্দ্রের মধ্যে ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে টানা দু’দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বায়ুপ্রবাহ ও মেঘের ঘনত্বের মানদণ্ডও পূরণ করতে হয়। সোমবার পর্যন্ত এই শর্তগুলি পূরণ হয়নি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের ব্যবধান নতুন নয়। বর্ষার আগমন প্রক্রিয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেও আবহাওয়ার সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
এদিকে কেরলের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা এবং এর্নাকুলম জেলায় হলুদ অ্যালার্ট জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন কেরল ও লক্ষদ্বীপে ঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ভারত এখনও প্রবল গরমে পুড়ছে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিদর্ভ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিম রাজস্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। দিল্লিতে একাধিক দিনে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাতের তাপমাত্রাও ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকছে।
তবে আবহাওয়াবিদরা আশ্বস্ত করছেন, বর্ষার আগমন এক থেকে তিন দিন দেরি হওয়া মানেই সিজন খারাপ হবে এমন নয়। আপাতত দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে স্বস্তির বৃষ্টির জন্য।















