আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায় না—পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আজ এই বড় পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনরার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা দেখভাল করার এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের থাকলেও, কারোর নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা কমিশনের নেই। প্রসেনজিৎ বোসের দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে আজ শীর্ষ আদালত এই মন্তব্য করে।

শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন ঝুলে রয়েছে। অথচ যে মাত্র ৩৮ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি এ যাবৎ হয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে মানুষের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের আবার তালিকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই ট্রাইব্যুনালের দু'জন বিচারপতি ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।

মামলায় অভিযোগ তোলা হয়, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবেদন যখন আদালতে বিবেচনাধীন, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে তালিকা থেকে বাদ পড়াদের রেশন ও অন্নপূর্ণা যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। এমনকি জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) দিতেও অস্বীকার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ঘোষণা করেছেন যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর ৩০ লাখ উপভোক্তা নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও ক্ষমতা দখলের পরপরই জানিয়েছিলেন, তালিকায় নাম না থাকলে কোনও  সরকারি ভাতা মিলবে না। শুধু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই নয়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে পাসপোর্ট নবীকরণ আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা দ্য টেলিগ্রাফের প্রাক্তন সম্পাদক আর রাজগোপাল নিজে অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন।

এই সমস্ত যুক্তি শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বিহারের একটি পুরনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল সন্দেহজনক নাগরিকদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো, তারা নিজে থেকে নাগরিকত্ব কাড়তে পারে না। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন মানুষের অন্যান্য নাগরিক ও সামাজিক অধিকার যাতে কেড়ে নেওয়া না হয়, সেই বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট হস্তক্ষেপ চান আইনজীবী শঙ্করনারায়ণন। আদালত আপাতত মামলাটি পশ্চিমবঙ্গের মূল এসআইআর (SIR) চ্যালেঞ্জকারী পিটিশনগুলির সাথে যুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।