আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের কৃষক আন্দোলনের চাপে অবশেষে নতিস্বীকার করল রাজ্য সরকার। সিপিএমের কৃষক সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা (AIKS)-এর টানা আন্দোলনের জেরে কৃষি ঋণ মকুব প্রকল্পের দুটি বড় ও বিতর্কিত শর্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন একনাথ শিন্ডে-দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের কৃষক সমাজের বড়সড় জয় হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।
বিগত কয়েক মাস ধরেই সম্পূর্ণ ও শর্তহীন কৃষি ঋণ মকুবের দাবিতে মহারাষ্ট্রজুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল কিষাণ সভা। গত ১০ ও ১১ জুন এবং পরবর্তীতে ১০ জুলাই সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি ডঃ অশোক ধাওয়ালে, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ডঃ অজিত নাওয়ালে ও রাজ্য সভাপতি উমেশ দেশমুখের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। গত ১০ জুলাই, মহারাষ্ট্র বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে, সিপিআই(এম) বিধায়ক বিনোদ নিকোলেও বিধান ভবন চত্বরে এই সমস্ত শর্ত বাতিলের দাবিতে সরব হন।
কৃষকদের এই লাগাতার বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই গত ২ জুন ঘোষিত ঋণ মকুব প্রকল্পের দুটি আপত্তিকর শর্ত তুলে নিতে বাধ্য হয় সরকার। ২০১৭ ও ২০১৯ সালের পর, এই নিয়ে তৃতীয়বার কিষাণ সভার নেতৃত্বে বড়সড় ঋণ মকুব আদায় করলেন রাজ্যের কৃষকরা। উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এই তৃতীয় ঋণ মকুব প্রকল্পের আওতায় ৫৬.৪০ লক্ষ কৃষককে ৩৬,০০০ কোটি টাকার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও কৃষক সংগঠনের দাবি, এই পরিসংখ্যান কিছুটা অতিরঞ্জিত, তবুও শর্ত প্রত্যাহারের ফলে ঋণের দায়ে জর্জরিত লাখ লাখ চাষি সরাসরি স্বস্তি পাবেন।
একদিকে যখন কর্পোরেটদের ১৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি অনুৎপাদক সম্পদ (NPA) মকুব করা হচ্ছে, তখন মোদী সরকার দেশজুড়ে কৃষকদের ঋণ মকুবের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছে কিষাণ সভা। এই জয় প্রমাণ করল যে, সংগঠিত ও জোরালো লড়াইয়ের মাধ্যমে সরকারের কৃষক-বিরোধী নীতিকে পিছু হটানো সম্ভব।
















